‘বোকার কাছে সুখশান্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ’

আঞ্জুমান আরা বেগম

আঞ্জুমান আরা বেগম: অধিকাংশ বাঙালী স্বামীরা স্ত্রীদের কোনো প্রশংসা করেন না। করতে লজ্জা পান অথবা সাহসে কুলোয় না। স্ত্রীরা ঠিকই তার পাগল ছাগল ল্যাংড়া স্বামীকে প্রশংসা করেন। উপরে তুলেন। লজ্জা পান না। সুখ পান। এমনকি অচরিত্রবান স্বামীকেও স্ত্রী কর্তৃক প্রশংসা করতে শুনেছি অনেক।

যে স্বামীটি রূপগুণ ধন-দৌলত দেখে মহা সমারোহে বিয়েসাদী করে বউকে ঘরে তুলে আনলেন বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তার রূপেগুণে যেন মরিচা খুঁজে পান। সুন্দর করে সাজলেও আগের মত উচ্ছসিত হন না। ভাল করে তাকিয়েও দেখেন না।

তাহলে এই সাজগোজ কার জন্য। এত টাকা পয়সা খরচ করেন কাকে দেখানোর জন্য। যদি সেটা নিজের জন্যই হয় অবশ্যই ভাল। আজকাল তো সাজগোজ ফেসবুকে ছবি আপলোড করার জন্য।

কিন্তু কেন এমন হয়?

কেন সম্পর্কটা ভাইবোন ভাইবোন হয়ে যায়। শুধু ভাইবোন ভাইবোন খেলাই নয় শুরু হয় একে অপরকে দোষারোপ, কথা কাটাকাটি। কোন কোন ক্ষেত্রে দাম্পত্য ভায়োলেন্স। এক্ষেত্রে দুজনেরই ভূমিকা কিন্তু অপরিসীম।

একে অপরের প্রতি প্রশংসা, মুগ্ধতা আর কৃতজ্ঞতাই কিন্তু এক সময়ে সম্পর্ক সুন্দর করেছিলো। কাছে টেনেছিল।

মাসলোর চাহিদার থিওরি অনুযায়ী মানুষের সকল চাহিদা যখন মিটে যায় তখন সে স্বীকৃতি চায়। প্রশংসা চায়। সেটা অবশ্যই ঘরের মানুষের কাছ থেকে আগে। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

এই আত্মবিশ্বাসী নারী আমাদের সমাজে খুবই কম। কারণ তার মেধা যোগ্যতা থাকলেও সে স্বীকৃতি পায় না বলে হীনমন্যতায় ভোগে। কারণ স্বামীটি তার প্রশংসা করেন না। ফলে পিছিয়ে থাকে।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে প্রশংসা করতে দেয় না। পুরুষতান্ত্রিকতায় আঘাত মনে করে। নিজেকে স্ত্রইনিক মনে করে। যা সম্পূর্ণ ভুল বা কুসংস্কার। এতে সে নিজেই কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর এজন্যই হয়ত আজকাল অনেকে পুরুষ দিবসের দাবি জানাচ্ছেন। কারণ নিজেরাই নিজেদের তন্ত্রে আটকে গেছেন। বেরুতে পারছেন না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যালেন বার্টন ৪৬০ জন দম্পতির ওপর এই গবেষণা চালান। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিলো যারা সঙ্গীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাদের দাম্পত্য জীবন অনেক স্বাভাবিক।

অ্যাটিটিউড অব গ্র্যাটিটিউডের তত্ত্বনুযায়ী ভাল কিছুর জন্য যদি আমরা কাউকে ধন্যবাদ জানাই তবে সেই ভাল কাজটা তার কাছ থেকে বারে বারে ফিরে আসবেই।

তেমনই সঙ্গীর ভালবাসা, পরষ্পরের প্রতি আস্থা রাখা, ভারসা জোগানো, সময়ে-অসময়ে পাশে থাকার জন্য যদি আমরা কৃতজ্ঞ থাকি, ভালোলাগা, মুগ্ধতার কথা জানাই তবে আমাদের সম্পর্ক সুন্দর হতে বাধ্য।

ধন্যবাদের মত প্রশংসার গুরুত্ব অনেক। প্রশংসা পেলে মুহূর্তেই মনটা খুশিতে ভরে ওঠে। প্রশংসাকারীর জন্য ভালো কিছু করতে ইচ্ছা করে। উপহার দিতে ইচ্ছে করে।

আমাদের নবী রাসূলরাও কিন্তু তাদের বিবিদের প্রকাশ্য মজলিসে প্রশংসা করতেন। আমাদের তো আর একাধিক বিবি বা স্বামী নাই। একটা নিয়েই হিমশিম।

বারাক ওবামাও কিন্তু তার বক্তব্যে স্ত্রী মিশেলের ভূয়সী প্রশংসা করতেন। সদ্যপ্রয়াত আনিসুল হক তার স্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করতেন। যার বিনিময়ে তাদের সকলের জীবনে উত্তরোত্তর উন্নতি হয়েছে সফল হয়েছেন।

ট্রাম্প তো তার স্ত্রীর হাত ধরেই থাকেন সারাক্ষন। কারন স্ত্রী হচ্ছে উন্নতির সোপান। তেমনি আমাদের থেরসা মে তার স্বামীর হার ধরে হাঁটেন আজকাল।

সঙ্গীকে ধন্যবাদ দিন। কোনো কারণে সঙ্গীকে আঘাত করে থাকলে দুঃখ প্রকাশও করুন। প্রশংসা করুন। অন্যের সামনে স্ত্রীকে ছোট করবেন না। অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। দেখবেন অনেক সমস্যায় সমাধান হয়ে গেছে।

সারাদিন যাই করেন না কেন দিনশেষে কিন্তু সেই কুদ্দুসের মা’র কাছেই ফিরে আসতে হয় ঘুমাতে হয়।

কুদ্দুসের মার জন্য ইকটু পায়ের আঙ্গুল ভিজান দেখবেন কুদ্দুসের মা গলা পানিতে নেমে যাওয়ার জন্য বসে আছে। আমরা বোকা তাই বুঝি না। আর

বোকার কাছে সুখশান্তি সাদা কাকের মতোই দুর্লভ।

লেখিক: আঞ্জু লন্ডন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।