নির্বাচনে এরদোগানের প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ গুল!

জিয়া উইয়েস: তুরস্কের গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য আব্দুল্লাহ গুলকে একজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

সর্বোপরি, তিনি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে ক্ষমতাসীন জাস্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে) একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একসময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এরদোগান ছিলেন তার প্রধানমন্ত্রী।

এত কিছুর পরও গুল ও এরদোগানের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব সামনে চলে এসেছে। তুরস্কের এরদোগান বিরোধীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে যে, হয়ত প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট বিরোধী দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন এবং আগামী বছরের নির্বাচনে তিনি তার পুরানো বন্ধুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

সম্প্রতি সরকারের নীতি নিয়ে গুল তার মুখ খুলেছেন। ২০১৭ সালের একেবারে শেষ সপ্তাহে এসে ‘প্রেসিডেন্টশিয়াল ডিক্রি’ নিয়ে গুল সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। এরদোগান তার এই সমালোচনাকে ভালভাবে নেয়নি।

২০১০ সালের অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অংশ নেয়া বেসামরিকদের ফৌজদারি অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য সম্প্রতি ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি ডিক্রি আইন’ পাস করা হয়। বিরোধীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই ডিক্রি সহিংসতায় বেশি আরো উত্সাহ যোগাবে।

সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো সুয়াত কিনিকিল্লুউ বলেন, ‘স্বাভাবিক রাজনৈতিক বা নির্বাচনী শর্ত নিয়ে কথা বলার অবস্থা তুরস্কে এখন আর বিদ্যমান নেই।’

গুল তার সতর্ক মন্তব্যে এই ডিক্রিকে ‘বিরক্তিকর’ বলে টুইট করেন।

গুলের এই সমালোচনার জবাবে এরদোগান কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তুরস্কের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রদেশে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে গুলকে উদ্দেশ্য করে এরদোগান বলেন, ‘আপনার লজ্জা থাকলে এরকম মন্তব্য করতে পারতেন না।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমরা কী এর কারণ সবার সঙ্গে শেয়ার করিনি?’

এরদোগানের মন্তব্যে গুলও কম যাননি। ৩০ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের দলের মূলনীতি এবং এই নীতিতে একজন বিশ্বাসী হিসেবে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আমি আমার মতামত প্রকাশ অব্যাহত রাখব।’

এরপর থেকেই সাবেক ও বর্তমান এই দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যেকার বিবাদ দেশটিতে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে এবং আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশ নিবেন কিনা- তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংবাদপত্রের কলামে প্রাধান্য বিস্তার করছে।

গত বছরের সাংবিধানিক পরিবর্তনের গণভোটের ফল এরদোগানের পক্ষে যাওয়াও ২০১৯ সালের নির্বাচনে তুরস্কের বর্তমান সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করবে। বিরোধীরা এটিকে এক ব্যক্তির শাসন হিসেবে অভিহিত করছেন।

কিন্তু তুরস্কের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য এরদোগানকে ২০১৯ সালের পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দু’টোতেই জয়ী হতে হবে।

এরদোগান বিরোধীদের অনেকেই গুলকে তার একজন আদর্শ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন। তুরস্কের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতাদের বিপরীতে, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট দেশটির কঠোর মতাদর্শিক ও সাংস্কৃতিক বিভাজনের মধ্যেও কুর্দিসহ সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউটের তুর্কি স্টাডিজের পরিচালক গনিউল টোল বলেন, ‘তিনি যদি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন, সেক্ষেত্রে এরদোগানের শাসনকে নাড়িয়ে দেয়ার জন্য তার সবচেয়ে বড় সুযোগ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কুর্দিরা তার পক্ষে ভোট দিতে পারেন। উদারপন্থীরা তার পক্ষে ভোট দিতে পারেন। তুর্কি জাতীয়তাবাদীরা তার পক্ষে ভোট দিতে পারেন এবং একে পার্টির মধ্যে থেকে যারা এরদোগানের শাসন সম্পর্কে অসন্তুষ্ট, তারাও গুলের পক্ষে ভোট দিতে পারে।’

হুরিয়েত পত্রিকার প্রভাবশালী কলামিস্ট আব্দুল কাদির সেলভি লিখেছেন, ‘এরদোগান গুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।’

একে পার্টির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে মত-বিরোধের কারণে দল থেকে দূরে সরে যাওয়া আবদুল্লাতিফ সেনর গত সপ্তাহে গুলের সতর্ক মন্তব্যকে উপহাস করেন।

তিনি ডিক্রি নিয়ে গুলের সতর্ক সমালোচনাকে ‘নগণ্য, লাজুক, ভীরুতাপূর্ণ সমালোচনা বলে উপহাস করেন।

বামপন্থী একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া একটি সাক্ষাত্কারে সেনর বলেন, ‘গুল কখনোই এরদোগানের বিকল্প ছিল না।’

পলিটিকো অবলম্বনে