ঘানার এনপিপি নেতার ইসলাম নিয়ে কৌতূহল (ভিডিও)

ঘানার এনপিপি নেতার ইসলাম নিয়ে কৌতূহল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আক্রা: ঘানার উদার রক্ষণশীল দল ‘নিউ প্যাট্রিওটিক পার্টি’র (এনপিপি) বিশেষ প্রতিনিধি সম্মেলনে হঠাৎ করেই উপস্থিত হন পার্টির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাবেনা আজিপং। তার উপস্থিতিতে উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন দলীয় সমর্থকেরা।

সম্মেলনটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুমাসির হিরোস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে তার সাজ পোশাক উপস্থিত সবাইকে কৌতূহলী করে তুলে। তিনি শেখদের মতো লম্বা সাদা পোশাকে সেখানে উপস্থিত হন এবং মুখে ছিল দ্বীপ্ত হাসি।

তার বেশভূষা ছিল মুসলিম আলেম এবং মুসলমানদের সম্মানিত নেতাদের মতো। ধারণা করা হচ্ছে আজিপং ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছেন।

এ ছাড়াও বরখাস্তের পর থেকে এটিই প্রথম দলীয় কোনো কর্মসূচিতে আজিপংয়ের উপস্থিতির ঘটনা।

প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় দর্শক সারিতে উপস্থিত লোকজন তাকে অভিনন্দন জানান।

কাবেনা আজিপং এবং পার্টির দ্বিতীয় ন্যাশনাল ভাইস চেয়ারম্যান স্যামি করাবিকে ২০১৫ সালে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

দলটির তৎকালীন ন্যাশনাল চেয়ারম্যান পল আফোকোকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করলে তাদের এই বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে অনেকের আহ্বান সত্ত্বেও আজিপং স্যামি করাবি ও আফোকোর মতো তার স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে যাননি।

এছাড়াও, তাকে বহিষ্কার করার পর থেকে তার অপেক্ষাকৃত ভাল আচরণের কারণে দলের সমর্থকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

ঘানার ইতিহাস
ঘানা পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এটি গোল্ড কোস্ট নামের একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ওই বছর এটি সাহারা-নিম্ন আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

আধুনিক ঘানার কয়েকশত মাইল উত্তর-পশ্চিমে ঊর্ধ্ব নাইজার নদীর তীরে অবস্থিত মধ্যযুগীয় সাম্রাজ্য ঘানার নামে দেশটির নামকরণ করা হয়। স্বাধীনতার পর আফ্রিকান বাকী দেশগুলোর স্বাধীনতার জন্য ঘানা নেতৃত্ব দেয়।

ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশটিতে ১০০-রও বেশি জাতির লোকের বাস। কিন্তু অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলোর মত এখানে দেশ বিভাজনকারী জাতিগত সংঘাত তেমন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি। আক্রা দেশের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। ইংরেজি সরকারি ভাষা হলেও বেশির ভাগ ঘানাবাসী কমপক্ষে একটি আফ্রিকান ভাষায় কথা বলতে পারেন।

ঘানার অর্থনীতি আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর একটি, কিন্তু এখনো কৃষি দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি এবং এখানকার বেশির ভাগ লোকই দরিদ্র।

স্বর্ণখনিশিল্প, চকোলেটের উপাদান কাকাও উৎপাদন, এবং পর্যটন দেশটির আয়ের প্রধান উৎস। কয়েকশ বছর আগে ঘানা সোনার একটি উৎস বলে পরিচিত ছিল। ১৫শ’ ও ১৬শ’ শতকে যেসব ইউরোপীয় এখানে সোনার খোঁজে এসেছিলেন, তারা অঞ্চলটিকে গোল্ড কোস্ট নাম দেন।

সামরিক কু এবং অর্থনৈতিক সমস্যা ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০-র দশক পর্যন্ত ঘানাকে বিপর্যস্ত করে রাখে। ১৯৯০-এর দশকে ঘানাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আফ্রিকান রাজনীতিতে একটি নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে এটি আবির্ভূত হয়। ১৯৯৭ সালে ঘানার এক কূটনীতিক কফি আনান জাতিসংঘের মহাসচিব হন।

সূত্র: ঘানা ওয়েব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।