মুস্তাফিজের প্রেমে মরিয়া শচীনের মুম্বাই

খেলা ডেস্ক
ঢাকা: আইপিএলের (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) ১১তম আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি। এর আগে দুইটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারকে দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলস দলে নিতে চায় সাকিব আল হাসানকে। আর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলে নিতে চায় মুস্তাফিজুর রহমানকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে একাদশ আসরে দলে ভেড়াতে খুব আগ্রহী দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। অন্যদিকে, কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানকে পেতে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ‘আইকন’ শচীন টেন্ডুলকার।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের আসর থেকে টানা ৭ বছর সাকিব ছিলেন কলকাতায়। তবে এই আসরে এই অলরাউন্ডারকে ছেড়ে দিয়েছে কেকেআর। অপরদিকে, ২০১৬ সালে আইপিএলে অভিষেক হয় মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেক অাসরেই বল হাতে ঝলমলে পারফরম্যান্স করে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন মুস্তাফিজ।

মুস্তাফিজকেও ছেড়ে দিল হায়দরাবাদ
আইপিএলের নতুন নিয়মে কোনো দল আগের বছরের ২ জন করে বিদেশী খেলোয়াড়ের বেশি ধরে রাখতে পারবেন না। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। এই নিয়মে পড়ে দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে এই দুই তারকাকে।

কলকাতা নাইট রাইডার্স ছেড়ে দিয়েছে সাকিব আল হাসানকে। আরেক বাংলাদেশি তারকা মুস্তাফিজুর রহমানের ভাগ্যও হয়েছে তাই। তাকেও ধরে রাখেনি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। প্রথম বছর হায়দরাবাদকে অসাধারণ সাফল্য এনে দিলেও গত বছরে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল তার।

দল ধরে না রাখলেও আইপিএল খেলার সম্ভাবনা রয়েছে এ দুজনের। বাংলাদেশি অন্য ৬ তারকার সঙ্গে এখন আইপিএলের নিলামে উঠবেন সাকিব ও মুস্তাফিজ।

বাকি ছ’জন বাংলাদেশে খেলোয়াড় হলেন: তামিম ইকবাল মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহদি হাসান মিরাজ, লিটন দাস, সাব্বির রহমান ও আবুল হাসান।

ঝরে পড়া ক্রিকেটাররা কখনো ফিরতে পারবে?
বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয় ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা চলাকালীন ইনজুরিতে পড়ে দল থেকে বাদ পড়েন।

এরপর আর জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি তিনি।

কিছুদিন আগে শেষ হয়ে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগেও ছয় ম্যাচে ৬১৯ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বিজয়। আরেকজন ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস শেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে। টেস্ট খেলেছেন ২০১৩ সালে।

এরপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত পারফর্ম করেছেন নাফিস। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৬ ম্যাচে ৬০০ রান করেন তিনি।

প্রায়শই দেখা যায় জাতীয় দলের জন্য প্রাথমিকভাবে যে ৩০ জনের নাম ঘোষণা করা হয় সেখানে জায়গা করে নিচ্ছেন বিজয় কিংবা নাফিস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে তাদের ঠাই হয়না।

শাহরিয়ার নাফিস কিংবা এনামুল হক বিজয়ের মতো অনেকটা একই অবস্থা পার করছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন।

সম্প্রতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে তিনি খেলেছেন ২৯৫ রানের একটি ইনিংস, যা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আট ম্যাচ খেলে ৪৮০ রান করেন নাসির হোসেন। কিন্তু জাতীয় দলে নিয়মিত জায়গা হচ্ছে না হোসেনের। তিনি কখনো দলে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, আবার কখনো দল থেকে ছিটকে পড়ছেন।

শাহরিয়ার নাফিসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল জাতীয় দলে ফিরে আসা কতটা কঠিন? নাফিস বলেন, ‘কেউ ভালো পারফর্ম করে সুযোগ পায়, কেউ অনেক ভালো পার ফর্ম করে সুযোগ পায়। একবার জাতীয় দল থেকে বের হয়ে যায় কেউ, তবে জাতীয় দলে ফিরে আসাটা অনেক কঠিন।’

‘যদি ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন হতো তবে এতোটা কঠিন হতোনা,’ বলেন নাফিস।

একবার জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে পুনরায় দলে ঢোকার রাস্তা কী? বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা মনে করেন, জাতীয় ক্রিকেট দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটের মধ্যে যোগাযোগ সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে ‘এ’ দল।

হীরা বলেন, ‘পুরো বছর এ দলের নিয়মিত দেশের বাইরে ট্যুর আয়োজন করতে হবে, ফলে দেশের বাইরে সিরিজগুলোতে মানিয়ে নেয়ার সমস্যাগুলো তেমন থাকবে না।’

ক্রিকেটার নির্বাচনের পদ্ধতি ঠিক আছে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নির্বাচক বা ক্রিকেট অপারেশন্স নিয়মিত খেলা দেখছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হীরা বলেন, অনূর্ধ্ব ১৩, ১৫, ১৭ বা ১৯ লেভেলে দল রয়েছে, কিন্তু এরপর যোগাযোগের জন্য একটা সেতু প্রয়োজন হয়। সেই সেতু হতে পারে এ দল। কিন্তু এ দলের অস্তিত্বই তো দেখা যায় না।

বাংলাদেশ দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, ‘জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া মানেই শেষ না, ওদের খেলার মধ্যে রাখতে হবে। ‘এ’ দলের আলাদা কোচিং স্টাফ প্রয়োজন, যে নিয়মিত মূল দলের কোচকে জানাবেন দলের অবস্থান সম্পর্কে।’