লাখ লাখ ডলার অর্থ বিদেশে সরানোর অভিযোগ তদন্ত হচ্ছে

বিশ্বের নিপীড়িত জনতার ত্রাণকর্তা এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: ট্যাক্স ফাঁকি দিতে লাখ লাখ ডলার অর্থ বিদেশে সরানোর যে অভিযোগ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে ওঠেছে তা খতিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কৌঁসুলিরা।

বৃহস্পতিবার আঙ্কারার প্রসিকিউটর অফিস এই তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, এই অভিযোগ প্রমাণে যে নথি পেশ করা হয়েছে তার সত্যতা নিয়ে তারা সন্দেহ করছেন।

সম্প্রতি দেশটির প্রধান বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান কেমেলে কিলিকদারোগলু অভিযোগ করেন যে, এরদোগানের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ‘দ্য আইল অব ম্যান’ নামের একটি কোম্পানিতে ১৪ মিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার করেছেন। তিনি প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি নথি উপস্থাপন করেন।

তবে, এরদোগান এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসেবে নাকচ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই মিথ্যা অভিযোগের জন্য কিলিকদারোগলুকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

এর আগে একটি অনুষ্ঠানে এই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করার জন্য বিরোধী নেতার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এরদোগান বলেছিলেন, ‘বিদেশে তাইয়্যেপ এরদোগানের যদি একটি মুদ্রাও থাকে, তার উচিৎ হবে এর প্রমাণ দেয়া। যদি প্রমাণিত হয়, আমি এক মিনিটের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে থাকব না।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোন অফশোর ব্যাংকে তাইয়্যেপ এরদোগানের অ্যাকাউন্ট আছে? এটা প্রমান করুন। আপনি যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে। যদি আপনি প্রমাণ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমি রাজনীতি ও আমার প্রেসিডেন্সি পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’

প্রসিকিউটরের অফিস জানায়, অভিযোগসমূহের ব্যাপারে তারা তদন্ত করেছেন এবং এরদোগানের পরিবারের সদস্যদের ফান্ডের গন্তব্য সম্পর্কে কিলিকদারোগলু যে কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন সেই কোম্পানির একজন কর্মকর্তা অভিযোগ প্রমাণের নথিগুলো ভুয়া বলে জানিয়েছেন।

এছাড়াও, সিএইচপি নেতাকে তার অভিযোগের সকল নথিসমূহ জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

সিএইচপি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান আজগর অজেল জানিয়েছেন যে তার দল প্রসিকিউট অফিসের নির্দেশ মেনে চলবে।

বিষয়টি তদন্তের জন্য সিএইচপি পার্লামেন্টের কাছেও আবেদন জানায়। কিন্তু তার এই দাবিকে ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যরা বৃহস্পতিবার প্রত্যাখ্যান করেন।

এরদোগান গত ১৫ বছর ধরে তুর্কি রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয়তা নেতা হিসেবে নিজের খ্যাতি বজায় রেখেছেন।

তবে, বিরোধীরা তাকে ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগ করছেন, বিশেষকরে গত বছরের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে এই অভিযোগ জোরালো হয়েছে। কিন্তু দেশটির জনপ্রিয় এই প্রেসিডেন্টকে চ্যালেঞ্জ করতে জনসমর্থনের জন্য সিইচপিকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।