ধর্মান্তরিত আমেরিকান মুসলিম ইউসুফ এস্তেসকে সিঙ্গাপুরে প্রবেশে বাধা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিঙ্গাপুর সিটি: বিভেদমূলক দৃষ্টিভঙ্গির অভিযোগে ইসলামে ধর্মান্তরিত আমেরিকান ইসলাম প্রচারক ইউসুফ এস্তেসকে গত মাসে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে জিম্বাবুয়ান ইসমাইল মেনক এবং মালয়েশিয়ার হ্যাসলিন বাহারিমকেও বাধা দেয়া হয়েছিল। এই দুই জনের পর এস্টেসকে ‘ধর্মীয় তরী’র তৃতীয় একজন বক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তাদের ‘পৃথকীকরণ এবং বিভেদমূলক শিক্ষা’ নীতির কারণে তাদের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

একই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে ৭৩ বছর বয়স্ক আমেরিকান এই প্রচারককে ২৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ‘বিভেদমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও নিজস্ব মতের’ কয়েকটি উদাহরণ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।

উদাহরণ হিসেবে এতে বলা হয়, ‘২০১২ সালের মার্চে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে এস্তেস বলেছিলেন যে, অন্য ধর্মের লোকের উৎসব উদযাপন করা ইসলামের অংশ নয় এবং খ্রিস্টানদের ‘ক্রিসমাস’ ও ইহুদিদের ‘হানুক্কা’ উৎসবে তাদের শুভকামনা জানানো মুসলিম বিশ্বাসের অংশ নয়।’

আমেরিকান নাগরিক এস্তেস ১৯৯১ সালে খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে তার ওয়েবসাইটে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে ধর্মীয় ভিত্তিতে ক্রিসমাসের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে ‘সোলস্টাইস উদযাপন থেকে ক্রিসমাসের আগমন এবং যিশুর আগমনের শত শত বছর পূর্ব থেকেই তা চলে আসছে। তাই, মুসলমানদেরকে এমন কিছু উদযাপন করা উচিৎ নয়, যা তাদেরকে আল্লাহ বিমুখ করে তুলতে পারে।’

এতে বলা হয়, অন্য ধর্মের কালিমালেপন করে এমন কোনো ধর্মের ধর্মীয় প্রচারকদেরকে সরকার দেশটিতে প্রবেশ করার অনুমতি দেবে না।

এতে আরো বলা হয়, তারা এর আগে দুইজন খ্রিস্টান প্রচারকের আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছিল, কারণ তারা ইসলাম ও বৌদ্ধধর্মসহ অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে উত্তেজক মন্তব্য করেছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই ধরনের বিভেদমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অসহিষ্ণুতার জন্ম দেয় এবং নিজস্ব মতের প্রচার সামাজিক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং সম্প্রদায়গুলোকে আলাদা করে ফেলবে। সিঙ্গাপুরের বহুজাতি ও বহু ধর্মীয় সমাজের প্রেক্ষিতে তারা অগ্রহণযোগ্য।’

গত ২৫ নভেম্বর এই রেলিজিয়াস ক্রুজ বা ধর্মীয় জাহাজ ইন্দোনেশিয়ার বান্দা আচেহ’র উদ্দেশ্য সিঙ্গাপুর ত্যাগ করে এবং তার চারদিন পর পুনরায় সিঙ্গাপুর ফিরে আসে।

গত অক্টোবর মাসে মুফতি মেনক এবং হ্যাসলিনকে সিঙ্গাপুর থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ‘ধর্মীয় জাহাজ ভ্রমণ’ প্রথম সংবাদের শিরোনাম হয়।

তবে, ভ্রমণের আয়োজক মালয়েশীয় কোম্পানি ‘ইসলামিক ক্রুজ’ এর ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে যে, এস্তেস ও তার স্ত্রী খাদিজা তাদের বিয়ের ২৫তম বার্ষিকী উদযাপন করতে প্রমোদ ভ্রমণে এসেছিল।

সূত্র: টুডে অনলাইন ডটকম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।