ট্রাম্প পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে উত্তাল গাজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পূর্ব জেরুজালেম: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ট্রাম্পের প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে গাজা স্ট্রিপ। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি গাজার রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।

বুধবার গাজার শহরতলীতে হাজার হাজার প্যালেস্টাইনি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা ট্রাম্পের নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার বহন করেন এবং প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার মধ্যেই বুধবার ট্রাম্প এই ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

গাজা থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি বার্নার্ড স্মিথ বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে জড়ো হন।

তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের ঘোষণার পরে কি ঘটতে পারে আজকের দিনটি তার জন্য একটি ইঙ্গিত। এখানকার বিক্ষুব্ধ জনতাকে একটি ছোট বলের আগুনের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে; যার আগুন গড়িয়ে গড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।’

ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থানকে ‘অনন্য’: হামাস
মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থানকে ‘অনন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহুরি।

মঙ্গলবার তুর্কি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদুলো এজেন্সিকে তিনি এই কথা বলেন।
সামি আবু জুহুরি বলেন, ‘তুর্কি কর্তৃপক্ষের এই অনন্য অবস্থান এবং মহান তুর্কি জনগণ হচ্ছেন এই নেতৃত্বের প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বাস ও পবিত্র স্থানগুলোকে টারগেট করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ট্রাম্পের এই ধরণের পদক্ষেপ মুসলিমদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বলে তিনি সর্তক করে দেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, এমনটা করলে এ বিষয় নিয়ে আমরা ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যন্ত ছিন্ন করতে পারি।

তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিতে ট্রাম্পের যে কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করার জন্য আমি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করব।

এদিকে জেরুজালেমকে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দিতে পারেন—এমন সম্ভাবনায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। মাখোঁ বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

গত রবিবার ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ফোরামে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেমের মর্যাদা প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

জেরুজালেমকে রাজধানী দাবি করে আসছে ইসরাইল। তবে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় দেশটির জনগণ।

ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান জেরুজালেম। তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ৪ ডিসেম্বর সময়সীমা পার হয়ে গেছে।

সোমবার দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা না দেওয়ায় দেশটির আইন অনুযায়ী আরও ছয় মাসের মধ্যে দূতাবাস সরছে না। দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করলেও আশঙ্কা রয়েছে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প।

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহ’র সঙ্গেও কথা বলেছেন অথবা বলবেন ট্রাম্প।

জেরুজালেম রাজধানীর স্বীকৃতি পেলে বিপদ কোথায়?
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এখন নিশ্চিত করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজই (বুধবার) জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিতে চলেছেন।

তা দিলে, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্র হবে প্রথম রাষ্ট্র যারা জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। খবর বিবিসির

স্বভাবতই ইসরায়েল সন্তুষ্ট, কিন্তু ফিলিস্তিনিরা ছাড়াও পুরো আরব বিশ্বের নেতারা সাবধান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকেই নস্যাৎ করবে।

এমনকী আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ‘পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য চরম এক উস্কানি।’

কিন্তু কেন জেরুজালেম মধ্যপ্রাচ্যে এত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু?
প্রাচীন এই শহরটি ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি বিরোধের একদম কেন্দ্রে।

শুধু এই শহরটি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে থেকে থেকেই সহিংসতা হয়েছে, প্রচুর রক্তপাত হয়েছে।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা ইয়োল্যান্ডে নিল বলছেন, জেরুজালেমের অবস্থার যে কোনো পরিবর্তনের প্রভাব নানাবিধ এবং তা যে কোনো সময় আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে।

প্রথম কথা, ধর্মীয় দিক থেকে জেরুজালেম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর একটি শহর।

ইসলাম, ইহুদি এবং খ্রিস্টান ধর্মের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনার অনেকগুলোই এই শহরে।

এছাড়া, এর রাজনৈতিক গুরুত্ব হয়তো এখন ধর্মীয় গুরুত্বকেও ছাপিয়ে গেছে।

ইসরায়েল বলে ‘অভিন্ন জেরুজালেম তাদের চিরদিনের রাজধানী।’ আসলে ১৮৪৮ সালে ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই ইসরায়েল জেরুজালেমের পশ্চিমাংশে দেশের সংসদ ভবন স্থাপন করে।

১৯৬৭ সালে আরবদের সাথে যুদ্ধে জিতে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমও দখল করে নেয় এবং পুরো জেরুজালেম শহরটিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে।

ফিলিস্তিনিরা কি বলে?
ফিলিস্তিনিরা কোনোদিনই পূর্ব জেরুজালেমের দখল মেনে নেয়নি। তারা সবসময় বলে আসছে পূর্ব জেরুজালেম হবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

ফিলিস্তিনি নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দিয়ে দেওয়া। তাদের কথা, জেরুজালেম তাদের না থাকলে, কোনো টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন কখনই সম্ভব হবেনা।

যদিও গত দশকগুলোতে পূর্ব জেরুজালেমের বহু জায়গায় ইহুদি বসতি বানিয়েছে, কিন্তু তারপরও এখানকার সিংহভাগ বাসিন্দা ফিলিস্তিনি যারা শত শত বছর ধরেই এই শহরে বসবাস করছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মেনে নিয়েছে, জেরুজালেম শহরের মর্যাদা, মালিকানা নির্ধারিত হবে ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি রফার অংশ হিসাবে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে তা লিখিত আকারে রয়েছে।

ফলে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি।

সমস্ত বিদেশি দূতাবাস তেল আবিবে, যদিও জেরুজালেমে অনেকে দেশের কনস্যুলেট রয়েছে।

এতদিনের সেই নীতি এখন ভাঙছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রাপ কেন এই ঝুঁকি তিনি নিচ্ছেন?
হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘প্রেসিডেন্ট নেহাতই একটি বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন’। তাদের কথা, ইসরায়েলকে বাড়তি সুবিধা দেওয় তার উদ্দেশ্য নয়।

তারা বলার চেষ্টা করছেন – জেরুজালেমের সীমানা নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান এখনও আমেরিকা মেনে নিচ্ছেনা, সেটা ঠিক হবে চূড়ান্ত শান্তি মীমাংসায়।

ফিলিস্তিনিরা কোনোভাবেই তাতে ভরসা পাচ্ছেনা। তাদের কথা, ট্রাম্প জেরুজালেমে ইসরায়েলের তৈরি ডজন ডজন অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোতে স্বীকৃতি দিয়ে দিচ্ছেন।

ওয়াশিংটনে বিবিসির সংবাদদাতা বারবারা প্লেট-উশেরও বলছেন, নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইহুদিদের সমর্থন পেতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন – জিতলে তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবেন এবং মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করবেন। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রাখছেন।

সংবাদদাতা বলছেন, এই স্বীকৃতি দিয়ে ট্রাম্প যে পরে প্রতিদান হিসাবে শান্তি চুক্তি ত্বরান্বিত করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেবেন, তার কোনো ইঙ্গিতই নেই।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের ফোন বিশ্বনেতাদের
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় উদ্বিগ্ন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বুধবার ইরান, তিউনিশিয়া ও মালয়েশিয়ার নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার দিনই এই ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সূত্র জানায়, এরদোগান ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজি কায়েড এসসেবি এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ফোন করেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে বলে তিনি নেতাদেরকে বলেন।

ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার প্রস্তুতি শুরু করবেন বলে তিনজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সিকে নিশ্চিত করেছেন।

প্যালেস্টাইন, আরব বিশ্ব ও মুসলিম দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফা স্বীকৃতি ব্যাপক জনসাধারণকে ক্ষিপ্ত করবে এবং শান্তি প্রক্রিয়ার মৃত্যুর ঘটাবে।

গত বছর নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছে জেরুজালেমে। অবৈধভাবে ইসরাইলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনীরা তাদের ভবিষ্যত রাজধানী হিসেবে আশা করছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থানকে ‘অনন্য’: হামাস
মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থানকে ‘অনন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহুরি।

মঙ্গলবার তুর্কি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদুলো এজেন্সিকে তিনি এই কথা বলেন।
সামি আবু জুহুরি বলেন, ‘তুর্কি কর্তৃপক্ষের এই অনন্য অবস্থান এবং মহান তুর্কি জনগণ হচ্ছেন এই নেতৃত্বের প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, আমেরিকার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বাস ও পবিত্র স্থানগুলোকে টারগেট করা হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ট্রাম্পের এই ধরণের পদক্ষেপ মুসলিমদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বলে তিনি সর্তক করে দেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার পার্লামেন্টে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, এমনটা করলে এ বিষয় নিয়ে আমরা ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যন্ত ছিন্ন করতে পারি।

তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিতে ট্রাম্পের যে কোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করার জন্য আমি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করব।

এদিকে জেরুজালেমকে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দিতে পারেন—এমন সম্ভাবনায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। মাখোঁ বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

গত রবিবার ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ফোরামে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার বলেন, ট্রাম্প জেরুজালেমের মর্যাদা প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

জেরুজালেমকে রাজধানী দাবি করে আসছে ইসরাইল। তবে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায় দেশটির জনগণ।

ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান জেরুজালেম। তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ৪ ডিসেম্বর সময়সীমা পার হয়ে গেছে।

সোমবার দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা না দেওয়ায় দেশটির আইন অনুযায়ী আরও ছয় মাসের মধ্যে দূতাবাস সরছে না। দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করলেও আশঙ্কা রয়েছে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প।

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহ’র সঙ্গেও কথা বলেছেন অথবা বলবেন ট্রাম্প।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।