যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম মহাকাশচারী হুসাইন মনওয়ারের গৌরবগাঁথা গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লন্ডন: বিশ্বব্যাপী ইমানদারদের বিশ্বাস সম্পর্কে গভীর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানোর এ সময় হুসাইন মনওয়ার নামের একজন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম মহাকাশচারী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ইলফোর্ড শহরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী হুসাইন মনওয়ার বার্তা সংস্থা গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘একজন মহাকাশচারী হওয়ার মত উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমার কখনোই ছিল না। আমি মনে করি আমি পৃথিবীর জন্য তেমন কিছুই করতে পারি নি।’

‘আমি মনে করি বিভিন্ন দিক থেকেই আমরা পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছি। যখন আমি এই প্রতিযোগিতায় নেমেছিলাম তখন আমি নিজেকে বলেছিলাম, এটার জন্য যাওয়া যাক, দেখা যাক কি হয়।’

গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ‘Kruger Cowne rising star competition’ নামের একটি প্রতিযোগিতায় ৯০টি দেশ থেকে প্রতিযোগীরা অংশ গ্রহণ করেছিল, আর হুসাইন মনওয়ার ওই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ায় এর পুরস্কার স্বরূপ ‘XCOR Space Expeditions’ নামের একটি সংস্থা থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের প্রথম কোনো মুসলিম হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ লাভ করেন।

হুসাইন মনওয়ার বলেন, ‘আমি জিতে যাবো এমনটি কখনো চিন্তাও করতে পারি নি।’

‘আমি চিন্তা করেছিলাম যে, যদি আমি প্রতিযোগিতার কয়েকটি ধাপ পার করতে পারি তবে আমি হয়তো কিছু ভালো মানবাধিকার কর্মীর সাথে দেখা করতে পারবো এবং তারা আমাকে আমার মানব কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করবেন। সেখানে ফাতিমা ভুট্টো ছিলেন যিনি পাকিস্তানে অনেক মানব কল্যাণমূলক কাজ করেছেন। আমি বিশ্বের প্রভাবশালীদের সাথে একটি বৈঠক করতে চাই যাতে অবস্থার পরিবর্তন করা যেতে পারে।’

মানসিক স্বাস্থ্য

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম মহাকাশচারী হওয়ার পরে তিনি তার মহাকাশ ভ্রমণের মাধ্যমে শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যের নয়, বরং সারা বিশ্বের তরুণ যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্য জনিত সমস্যা গুলোকে সকলের সামনে তুলে ধরতে চান।

হুসাইন মনওয়ার বলেন, ‘আমি এই ফ্লাট-ফর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যাগুলো দূর করার ঝুঁকি নিতে চাই, আর আমি এভাবেই চিন্তা করি। আমি যা দ্বারা অনুপ্রাণিত হই তা হচ্ছে, আপনাকে জনগণের জন্য কাজ করতে হলে এমন কেউ হতে হবে যিনি সমস্যা সমূহকে আন্তরিকভাবে নিতে পারেন।’

এমনকি প্রতিযোগিতায় জেতার পূর্বেও হুসাইন মনওয়ার অসহায় লোকদের সাহায্য করার জন্য কয়েক হাজার পাউন্ডের একটি ফান্ড গঠন করেন এবং তিনি যুক্তরাজ্যের অন্তত ৪০০টি বিদ্যালয়ে পাঠ দান করেন।

ইউটিউবে ‘Hussain’s House’ নামে তার একটি চ্যানেল রয়েছে যেখানে তিনি কৌতুক অভিনেতা কেভিন হার্ট, র্যা প সঙ্গীত শিল্পী জি-ইয়াজি এবং রেডিও উপস্থাপক চারলামাগেন এর সাক্ষাতকার নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘XCOR Aerospace’s Lynx spacecraft’ এর মহাকাশ যানে করে পৃথিবী থেকে তিনি ১০০ কিলোমিটার দূরে ভ্রমণ করবেন এবং এর মাধ্যমে তিনি তার মানব কল্যাণমূলক প্রচারণাকে একটি অন্য মাত্রায় পৌঁছিয়ে দিতে চান।

হুসাইন মনওয়ার তার বিজয়ী বক্তব্যে বলেন, ‘আমার নাম হুসাইন এবং আমি কোনো সন্ত্রাসী নই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার মাথায় একটি চিন্তা এসেছে, আর তা হচ্ছে: বিশ্ব একজন মুসলিমকে পুরস্কৃত হতে দেখছে। আমি অর্থবহ কিছু বলতে চাই। ধর্মের ইতিবাচক কিছু মানুষ দেখবে এটি আসলেই লোকজনের জন্য ভালো যা আমরা প্রতিনিয়ত এড়িয়ে যাই।’

‘আমার কাছে এটি খুবই পরিষ্কার যে, আমরা বিশ্বের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছি।’

‘যদি আমরা এটি মোকাবেলা করতে পারি, তবে অনেক সমস্যার সমাধান আপনা আপনিই হয়ে যাবে।’- শেষে তিনি এমনটি বলেন।

সূত্রঃ এবাউটইসলাম ডট নেট।