কিম জং উনের হঠাৎ বেইজিং সফর নিয়ে বিশ্বে হৈ চৈ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বেইজিং: হঠাৎ করেই চীন সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনেকটাই হৈ চৈ পড়ে গেছে। উত্তর কোরিয়ার এই নেতা হঠাৎ করেই কেন বেইজিং সফরে এলেন এ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিম জং উনের এ সফরের দুই ধরনের অর্থ হতে পারে। প্রথমত, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া হয়তো শিগগিরই নতুন করে আলোচনায় বসবে। সেই আলোচনার আগে ‘পরামর্শ’ নিতে তিনি সম্ভবত বেইজিং সফর করছেন। দ্বিতীয়ত, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ঝিমিয়ে পড়া আলোচনায় প্রাণ ফেরাতে তিনি হয়তো চীনকে দিয়ে ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরি করতে চান। খবর এএফপির।

গত জুনে সিঙ্গাপুরে বৈঠক করেন উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দেওয়া পর্যন্তই! ওই বৈঠকের পর দুই পক্ষের সম্পর্কের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ঘটেনি; বরং অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া বলছে, তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুললে তারা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে কোনো পদক্ষেপ নেবে না। অন্যদিকে ট্রাম্পের মনোভাব হলো, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত হলেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্পের এ মনোভাবের দিকে ইঙ্গিত করে গত ১ জানুয়ারি উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মনোভাব না পাল্টালে উত্তর কোরিয়া নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন পথে হাঁটতে বাধ্য হবে। এ পরিস্থিতির মধ্যে গত সোমবার থেকে সস্ত্রীক চার দিনের চীন সফর শুরু করেছেন উন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এর বিশ্লেষক হ্যারি কাজিয়ানিস মনে করেন, কিম আসলে ট্রাম্প প্রশাসনকে এটা স্মরণ করিয়ে দিতে চান যে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরেও তাঁর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মিত্র আছে। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার যেকোনো সম্পর্কোন্নয়নেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া উচিত। কারণ চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মানেই হলো উত্তর কোরিয়ার ওপর মার্কিন চাপ শিথিল হয়ে যাওয়া।

এমন একসময় উন এ সফর করছেন, যখন বাণিজ্য বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কাজিয়ানিস বলেন, এটা পরিষ্কার যে চীন যখন খুশি তখন উত্তর কোরিয়াকে দাবার কোর্টে হাজির করতে পারে।

কোরীয় যুদ্ধে (১৯৫০-৫৩) উত্তর কোরিয়ার পাশে ছিল চীনের সেনারা। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত চীনই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যাবসায়িক ও কূটনৈতিক সঙ্গী। বেইজিং ভালো করেই জানে, উত্তর কোরিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটলেই চীনের দিকে শরণার্থীদের স্রোত বইবে।

এদিকে ট্রাম্প ও উনের মধ্যে শিগগিরই আরেকটি বৈঠক হবে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার রয়েছে। গত রবিবার খোদ ট্রাম্পও বলেছেন, বৈঠকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। অনেকের ধারণা, বৈঠকের স্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে থাকলে বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়েও নিশ্চয়ই আলোচনা চলছে।

সিউলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেজং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক চিয়ং সিয়ং চ্যাং মনে করেন, উন হয়তো শিগগিরই দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাবেন কিংবা ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এ কারণেই তিনি চীন সফর করছেন। গত বছর ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনের সঙ্গে বৈঠকের আগেও তিনি চীন সফর করেছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার দংগুক বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর কোরিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক ইউ-ওয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে চীনের সম্মতি উনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বাদ দিলে উত্তর কোরিয়ার মধ্যে একধরনের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে। কিন্তু বেইজিং যদি উনকে আশ্বস্ত করে যে পরমাণু অস্ত্র না থাকলেও তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা চীন দেবে, সে ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ততটা ভয় পাবে না।’