জেফারসনের মালিকানাধীন কয়েক শত বছরের পুরনো কুরআনের কপি হাতে শপথ গ্রহণের ব্যাখ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত মুসলিম নারী রাশিদা তালিব দেশটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং তৃতীয় প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনের মালিকানাধীন কয়েক শত বছরের পুরনো একটি পবিত্র কুরআনের কপি হাতে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

কেউ কেউ হয়ত অবাক হয়ে যাবেন এ কথা শুনে যে, থমাস জেফারসনের নিকট পবিত্র কুরআনের ইংরেজি ভাষার এমন একটি কপি ছিল যা ১৭৩৪ সালে লিখিত হয়েছিল। বার্তা সংস্থা সিএনএনের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে যে, রাশিদা তালিব বলেছেন, পবিত্র কুরআনের এই অনুদিত অধ্যয়ন করতে তার কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং তিনি একে সঠিক বলে অনুভব করেছেন।

বার্তা সংস্থা সিএনএন কে রাশিদা বলেছেন, ‘আমি এটি পছন্দ করেছি। আমি এটি পছন্দ করেছি কারণ আমি কিছু লোকের এই ধারণা ভেঙ্গে দিতে পেরেছি যে, যারা বিশ্বাস করে আমরা এই দেশে একেবারেই নতুন।’

বার্তা সংস্থা ওয়াশিংটন পোষ্টের মতে, ২০০৭ সালে মিনিশোটা রাজ্যে থেকে কংগ্রেসম্যান নির্বাচিত হয়ে কেইথ ইলিসন নামের অপর একজন কংগ্রেসম্যান থমাস জেফারসনের অনুদিত পবিত্র কুরআনের কপি হাতে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

ওয়াশিংটন পোষ্ট বলছে পবিত্র কুরআনের এই কপিটি আরবি ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন জর্জ সেল নামের একজন অনুবাদক।

রাশিদা তালিব বলেন, ‘এটি আমার নিকটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ বেশিরভাগ আমেরিকান বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইসলাম একটি বিদেশী ধর্ম। মুসলিমরা এখানে শুরু থেকেই ছিল…আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অনেকে ইসলাম সম্পর্কে বর্তমান কংগ্রেস সদস্যদের চাইতে বেশী জানতেন।’

বার্তা সংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, রাশিদা তালিব বলেছেন, ‘তিনি পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থোব নামের একধরনের ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করেন।’

তিনি বলেন, ‘অভিবাসীদের প্রত্যেক সন্তান জানে এর মানে কি। তাদের সবচেয়ে বড় আশা হচ্ছে এই যে, তারা আমাদের সফল দেখতে চায়। কিন্তু তারা একই সাথে এটা দেখতে চায় না যে, আমরা যেখান থেকে এসেছি এবং যাদের অংশ তা যাতে ভুলে না যাই।’

বার্তা সংস্থা দ্যা ডেটরোইট ফ্রি প্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তিনি পবিত্র কুরআন হাতে শপথ নিতে চান কারণ তিনি একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে বিশ্বাস করেন।’

রাশিদা তালিব বলেন, ‘পবিত্র কুরআন হাতে শপথ নেয়ার মাধ্যমে আমি দেখাতে চেয়েছি যে, আমেরিকার নাগরিকগণ বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসেছেন এবং আমরা সকলেই ন্যায় বিচার আর স্বাধীনতাকে ভালোবাসি। আমার বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই আমি বাস করি। নবী মুহাম্মদ(সা.) সবসময় স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের কথা বলতেন।’

প্রসঙ্গত, ইলহান ওমার নামের অপর জন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন যিনি সোমালিয়ার বংশোদ্ভূত আমেরিকান। আর অন্যদিকে রাশিদা তালিব হচ্ছেন এমন একজন যিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে কংগ্রেসওম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র: মিয়ামিহারলাড ডট কম।