যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম নারী সলিসিটর জেনারেল ফাদওয়া হামউদ, কোরআন হাতে নিয়ে শপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সলিসিটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেলেন ফাদওয়া হামউদ নামের একজন মুসলিম নারী। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল দানা নেসেল প্রথম মুসলিম হিসেবে ফাদওয়া হামউদকে সলিসিটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন এবং নিয়োগের পর পরেই তিনি সলিসিটর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

ফাদওয়া হামউদ একই সাথে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তার তরুণ সন্তানের হাতে থাকা পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করেন।

ফাদওয়া হামউদ বলেন, ‘ হ্যাঁ, এটি সত্য যে, কোনো আরব মুসলিম এর পূর্বে সলিসিটর হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন নি। আমি একই সাথে আরব এবং মুসলিম এবং তারা আমাকে এই কাজে সমতা আর ন্যায়বিচার শিখিয়েছে।’

ফাদওয়া হামউদ একই সাথে দেশটির মিশিগান রাজ্যের প্রথম কোনো নারী সলিসিটর।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বাস করুন যখন আমি সলিসিটর হিসেবে শপথ পাঠ করছিলাম তখন আমি আমার কৃতজ্ঞতাকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিলাম না।’

‘আর শপথ পাঠের সাথে সাথে আমি আমাদের এই দেশের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি, কারণ আপনারা আমাকে এমন শক্তি দান করেছেন। আমি রাজ্যের উচ্চ আদালতে আপনাদের সলিসিটর জেনারেল হিসেবে আমার সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করবো।’

শপথ পাঠ অনুষ্ঠানটি ফাদওয়া হামউদের উচ্চ বিদ্যালয় ফোর্ডসনে অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ওয়ানে কাউন্টির প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফাদওয়া হামউদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তার সাথে তার লেবানন বংশোদ্ভূত মা, দানা নেসেল, ওয়ানে কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওর্থি, ওয়ানে কাউন্টির কর্মকর্তা ওয়ারেন ইভানস এবং আরব-আমেরিকান সংবাদ প্রকাশক ওসামা সিবলানি উপস্থিত ছিলেন।

ফাদওয়া হামউদের প্রাক্তন প্রধান কিম ওর্থি বলেন, ‘যখন আমি জানতে পারি যে, ফাদওয়া হামউদ সলিসিটর পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে আমার দপ্তর ত্যাগ করতে যাচ্ছে তখন আমি কিছুটা বিচলিত ছিলাম। কিন্তু আমি জানি তার জন্য এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘তার জন্য আপনাদের করতালি শোনার পূর্বে আমি এ বিষয়টি ঠিক বুঝে উঠতে পারি নি। এর পরে যখন তার প্রতি আপনাদের উদারতা এবং সমর্থন দেখতে পেলাম তখনই আমি এ সম্পর্কে ধারণা লাভ করি।’

দীর্ঘ সফল ভ্রমণ
কিম ওর্থি আরো বলেন, ‘যখন ফাদওয়া হামউদ যাত্রা শুরু করেছিল তখন তিনি ছিল একজন তরুণ আইনজীবী… এবং সে কত বড় বড় মামলা সম্পর্কে দেখভাল করে এবং সফল হচ্ছিল তা সম্পর্কে আমি জানতে শুরু করি। সে আমার দপ্তরে কিছু দিনের জন্য ছিল। আর আমি দেখতে পাই যে, তিনি শুধুমাত্র যোগ্যতমই নয়, শুধুমাত্র জন্মগতভাবেই নেতৃত্বের গুণাবলী সমৃদ্ধই নয়, শুধুমাত্র সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া ব্যক্তিই নয় বরং আমি বুঝতে পেরেছিলাম সে আসলে কতটা মেধাবী।’

ওয়ানে কাউন্টির আরেক প্রসিকিউটর নে-সেল মিশিগানের সর্বোচ্চ আপীল আইনজীবী হিসেবে ফাদওয়ার নিয়োগ সম্পর্কে বলেন, ‘ফাদওয়া সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় যে, সে একজন অনন্য ব্যক্তি। একই সাথে তার সম্পর্কে তুলনা করে বলতে গেলে বলতে হয় যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দেশের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি নন। ফাদওয়া প্রসিকিউটর দপ্তরে থাকার সময় এখানকার সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে দড়ি দিয়ে আটকে রেখেছিল। সে এই কাজের জন্য সবচেয়ে যোগ্যতম একজন।’

ফাদওয়ার তরুণ ভ্রাতা আব্বাস বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের এমন একজনকে পরিচয় করিয়ে দিতে এসেছি, যে আপনাদের অতি পরিচিত একজন অসাধারণ নারী। আপনারা তার উপর আস্থা রাখতে পারেন। আপনার তার বিচারের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন কারণ তার সিদ্ধান্ত নেয়ার কেন্দ্রে ভালোবাসা থাকে। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং মিশিগানের জনগণের জন্য সে যত কাজ করে তাতে ভালোবাসা মিশ্রিত থাকে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান রাজ্য থেকে রাশিদা তালিব এবং মিনিশোটা রাজ্য থেকে ইলহান ওমার দেশটির ইতিহাসের প্রথম মুসলিম নারী কংগ্রেসওম্যন হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত অন্যান্য মুসলিম হচ্ছেন- আসাদ আকতার সহজেই রিপাবলিকান দলের লরি মামবেইলকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিলেন।

সেলিম প্যাটেল যাকে জাইদা পোলান্কোর মৃত্যুর পরে রাজ্যের কাউন্সিল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তিনি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন।

নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্য থেকে ২৭ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী ডেমোক্রেট সাফিয়া ওয়াজির যিনি একসময় একজন শিশু উদ্বাস্তু হিসেবে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিস সোউসিকে পরাজিত করে জয়ী হন।

সূত্র: এবাউটইসলাম ডট নেট।