এরদোগানের রাজত্বের সম্ভাব্য চার ভয়াবহ পরিণতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন এক্সামিনার এর অন্যতম বিশ্লেষক মাইকেল রুবিনের মতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের শাসন ব্যবস্থার সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা নির্বাসনের মাধ্যমে, কারাবরণের মাধ্যমে অথবা ফাঁসিতে ঝোলার মাধ্যমে।

পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল রুবিন লিখেন, ‘এরদোগানের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে এখন আর কারো মধ্যে কোনো রূপ বিতর্কের অবকাশ নেই। গত বছর Freedom House তুরস্কের স্বাধীনতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে একে ‘পুরোপুরি স্বাধীন নয়’ বলে মন্তব্য করে, যার ফলে দেশটি বর্তমানে রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং ভেনিজুয়েলার মত দেশের কাতারে এসে পৌঁছিয়েছে।’

যে সকল তুর্কি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ভ্রমণ করতে আসেন তারা কিছুটা ভীতিগ্রস্ত এবং মস্তিষ্ক বিকৃতির মধ্যে থাকেন, কারণ তারা সবসময় এই ভয়ে থাকেন যে, যদি তাদের নিজের দেশ সম্পর্কে কোনো কটু কথা তারা বলে ফেলেন তবে দেশে ফিরলে তাদের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও এরদোগান ইতোমধ্যেই ১৬ বছর যাবত রাজত্ব করে চলেছেন এবং তা শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে।

মাইকেল রুবিনের মতে, ‘যেখানে গণতন্ত্রকামীগণ প্রতিদিন এই স্বপ্ন দেখতে দেখতে জেগে উঠেন যে, তাদের শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা বিদ্যমান থাকবে। অন্যদিকে একনায়কগণ এই ভয়ে প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে উঠেন যে, আজকেই বোধহয় তাদের জীবনের শেষ দিন।’

মাইকেল রুবিনের মতে, এরদোগানের শাসন ব্যবস্থা প্রথমত রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মাধ্যমে অবসান ঘটতে পারে। তার মতে, তুরস্কের নেতৃবৃন্দ দেশটির জাতির পিতা কামাল আতাতুর্কের অতীত স্মৃতি এবং কিংবদন্তি মুছে ফেলে এরদোগানকে কিংবদন্তি তুল্য করতে অতিশয় অপছন্দ করেন।

রুবিন বলেন, ‘এরদোগান তার ছেলে আহমেত এবং বিলালকে নিজের পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলারের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছেন, অন্যদিকে নিজের জামাতা বেরাত আলবাইরাককে দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন।’

কিন্তু এরদোগানের মনে রাখা উচিত যে, যখনই মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক তার নিজের ছেলে গামালকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করেছিল ঠিক তখনই সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়।

দ্বিতীয়তঃ খুব সম্ভবত এরদোগানের অবসান ঘটতে পারে নির্বাসনের মাধ্যমে। রুবিনের মতে, ‘এরদোগানের কার্যকলাপে মনে হচ্ছে যে, তিনি যতটা নিরাপদ থাকতে চান এর আর তিনি ততটা নিরাপদে নেই।’

যদি তুরস্কের জনগণ জেগে উঠে তখন উগান্ডার ইদি আমিন, তিউনিসিয়ার জিনে আল আবিদিনের মত এরদোগানের সামনে পালিয়ে নির্বাসনে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তিনি ঠিক কোথায় যাবেন। রুবিনের মতে, ‘সাবেক লিবিয়ান নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি যেরকম শেষ মুহূর্তে বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার কোনো বন্ধু নেই ঠিক তেমনি এরদোগানের আচরণের ফলে তার সমনের অনেক পথই রুদ্ধ হয়ে যাবে।’

এরদোগানের শাসন ব্যবস্থার অবসানের তৃতীয় কারণটি হতে পারে কারাদণ্ডের মাধ্যমে। রুবিন বলেন, ‘যদি জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং তুরস্কের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসে তখন বিচারকগণ বাধ্য হয়ে এরদোগানকে শাস্তির আওতায় আনবেন। ইতোমধ্যেই এরদোগানের বৃহৎ সম্পদের কোনো আইনগত ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যায় নি।’

আর চূড়ান্তভাবে এরদোগানের অবসান ঘটতে পারে ফাঁসিতে ঝোলার মাধ্যমে। এটি হতে পারে এরদোগানের হিরো এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদনান মেনডেরেসের মত, যিনি দেশটির প্রথম নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন, দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছিলেন এবং তুরস্ককে ন্যাটো ভুক্ত করার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

কিন্তু ১৯৬০ সালে বামপন্থীদের দমন পীড়নের কারণে এবং জনজীবনে ইসলামী ভাবধারা চালু করতে চাওয়ায় দেশটির সেনাবাহিনী তাকে উৎখাত করে, কারাবন্দী করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফাঁসিতে ঝুলায়।

তবে রুবিনের মতে, যদিও আদনান মেনডেরেস ছিলেন নির্দোষ কিন্তু এরদোগানকে অপরাধী বলেই মনে হচ্ছে। তবে তার মানে এই নয় যে, তাকে ফাঁসিতে ঝুলে মরতে হবে।

রুবিনের মতে, ‘এমনকি এরদোগানের সমসাময়িক দিগন্তের দিকে তাকালে এ বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, তার ভবিষ্যৎ অতোটা উজ্জ্বল নয় এবং অপমান আর ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই এরদোগান এবং তার পরিবারে বিলাসী ক্ষমতার পরিবর্তন সম্ভব।’

সূত্র: আহভালনিউজ ডট কম।