মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার হুমকি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামাবাদ: আমেরিকার ড্রোন ভূপাতিত করার কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পাকিস্তান। দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হলে আমেরিকাসহ যেকোনো দেশের ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করতে পাকিস্তান সরকার তার দেশের বিমানবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কে যখন টানাপড়েন চলছে তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সোহেল আমান তার বাহিনীকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।

আমান বলেছেন, আমরা কাউকেই আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে দেব না। বিমানবাহিনীকে বলেছি, এমন ঘটনা ঘটলে ড্রোনগুলিকে গুলি করে মাটিতে নামাতে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিপন্ন করে যদি মার্কিন ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে তবে তাদেরও ছাড় দেয়া হবে না। আমান ইসলামাবাদে দেয়া এক বক্তব্যে এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে।

এমন নির্দেশনার মাধ্যমে পাকিস্তান বিমান বাহিনী তার আগের নীতি থেকে সরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর আগে এ বাহিনী তার ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিন্দা জানালেও সেগুলোকে ভূপাতিত করার কোনো নির্দেশ দেয় নি।

ঘটনাচক্রে আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের একটি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সপ্তাহ দু’য়েক আগে মার্কিন ড্রোন জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানায় হামলা চালিয়েছিল। এতে তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়। এরপরই মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা নির্দেশ দিল পাকিস্তান বিমানবাহিনী।

বুশ-ওবামা বলেছিলেন মুসলিমরা আমেরিকার অংশ, ট্রাম্প বলছেন আমরা তা নই
জেনিফার উইলিয়ামস: মাত্রই দুই বছর আগে বাল্টিমোরের একটি মসজিদের ভিতর ধাতব নির্মিত একটি ফোল্ডিং চেয়ারে বসেছিলাম এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের কথা শুনছিলাম। আমার মতো সেখানে উপস্থিত প্রায় ২০০ জন আমেরিকান মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলছিলেন, আমরা আমেরিকার অন্তর্গত।

মসজিদ প্রবেশের রীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার জুতো খুলে হেলানো ডেস্কের ওপর দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকজন ও টিভি ক্যামেরা গুলোর দিকে এক নজর চোখ বোলালেন।

তারপর তিনি বললেন, ‘আপনারা এই দেশটির উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে যদি কখনো চিন্তা করেন, তাহলে আমাকে বলতে দিন-আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রমাণ করেছি যে আমি পারি। আপনারাও এখানে উপযুক্ত। আপনারা আমেরিকার অন্তর্গত এবং আমেরিকার একটি অংশও বটে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা মুসলিম বা আমেরিকান নন। আপনারা মুসলিম এবং আমেরিকান।’

দেশটিতে মুসলিম বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এটি ছিল একটি শক্তিশালী বার্তা। তার এই বক্তব্যে আমি আমার চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমেরিকার মুসলমান ও আমেরিকায় তাদের অবস্থান সম্পর্কে একটি বার্তা দিয়েছেন এবং তা আমাকে ফের কাঁদিয়েছে কিন্তু তা একেবারেই ভিন্ন কারণে।

আর এর কারণটি হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার সকালের সময়টা ব্যয় করেন একটি প্রপাগান্ডামূলক ধারাবাহিক মুসলিম বিরোধী ভিডিও তার টু্‌ইটারে পুনরায় শেয়ার করার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার ৪৩.৬ মিলিয়ন অনুসারীর নিকট মুসলিমদেরকে চিত্রায়িত করেছেন ‘সহিংস ও বর্বর’ হিসেবে।

ভিডিওগুলো শেয়ার করেছিলেন জাইডা ফ্রানসেন নামে একজন ব্রিটিশ নারী। এই নারী ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ নামে যুক্তরাজ্যের চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের নেতা। দলটি চরম মুসলিম বিরোধী ও অভিবাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অধিক পরিচিত। হিজাব পরা একজন নারীকে আক্রমণের কারণে জাইডা ফ্রানসেন ২০১৬ সালে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

মুসলিমদেরকে হেয় করা ট্রাম্পের জন্য এটাই প্রথম নয়। নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধের প্রস্তাব করেছিলেন এবং আমেরিকার মুসলিমদের জন্য একটি ডাটাবেস তৈরির বিষয়টি বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প আমেরিকায় বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করেন। এটি বাস্তবায়নে তার একাধিক প্রচেষ্টাকে মার্কিন ফেডারেল বিচারক কর্তৃক সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

যাইহোক, বুধবার সকালে ট্রাম্পের এই কর্ম আমাকে বিশেষভাবে আঘাত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান এই প্রেসিডেন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে এবং নির্লজ্জের মতো মুসলমানদের বিরুদ্ধে নগ্ন ঘৃণা ও উসকানি দিতে তার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।

একজন মুসলমান আমেরিকান হিসাবে আমার প্রেসিডেন্ট আমাকে এবং আমার সহযোগী মুসলমানদেরকে সম্ভাব্য নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং হয়ত, নিষ্ঠুর বর্বরতার চেয়েও সামান্য বেশি কিছু হিসেবে দেখছেন।

কিন্তু তার চেয়ে আরো খারাপ যে জিনিসটি তা হচ্ছে, এটি অন্যান্য আমেরিকানদের বলছে যে তারা কিভাবে আমাদের দেখবে এবং তা অবিশ্বাস্যভাবে বিপজ্জনক হয়ে ওঠছে।

৯/১১ এর হামলার পরের দিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ওয়াশিংটন ডিসি’র একটি মসজিদে গিয়েছিলেন এবং মুসলিম বিরোধিতার বিরুদ্ধে একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সেদিন তিনি তার ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন যে ‘ইসলাম শান্তির’।

লেখক পরিচিতি: জেনিফার উইলিয়ামস একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। তিনি ভক্স ডটকমের একজন ফরেন বিষয়ক এডিটর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।