ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাসের দুই নেতা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা: অধিকৃত গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। শনিবার ইসরাইলের বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের দুই নেতা নিহত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পরের দিন শুক্রবার ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালন করেন ফিলিস্তিনিরা। ওইদিন বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আরো দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

শনিবারও পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ফিলিস্তিনিদের। এসব সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ চলছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদ্র এক বিবৃতিতে জানান, গাজা শহরের দক্ষিণে ইসরাইলি বাহিনীর যুদ্ধক্ষেত্র হামাসের ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে দুইজন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হামাসের সামরিক শাখা জানিয়েছে, নিহত দুই নেতা হলেন, মুহাম্মদ আল-সাফাদি (২৯) এবং মাহমুদ আল-আত্তাল (২৮)।

ইসরাইলের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এর আগে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) হামাসের ২টি অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ১টি অস্ত্র গুদাম ও ১টি সামরিক কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামাসের রকেট হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি ইসরাইলের।

হামাসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসিম বলেন, আমরা প্রতিটি শহরের মানুষকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। নতুন ইন্তিফাদা ও জেরুজালেমকে রক্ষায় আপনারা রাজপথে নেমে আসুন।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার পশ্চিম তীরের বেথেলহেমে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন রাবার বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছেন। বাকি দশজন ইসরাইলি বাহিনীর টিয়ার শেলের গ্যাসে আহত হন।

টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকা থেকে খান ইউনুসের সীমান্ত বেস্টনির দিকে মিছিল নিয়ে যায়। সংঘর্ষের আশঙ্কায় ইসরাইল বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রেখেছে। গাজার উত্তরাঞ্চলে ও পশ্চিম তীরের বেথেলহেমের র‌্যা চেল সমাধির কাছেও বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনিরা।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে আছে ফিলিস্তিন। শুক্রবার কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে অংশ নেন। পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার অন্তত ত্রিশটি স্থানে ইসরাইলি বহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। শুক্রবারের ওই বিক্ষোভে ফিলিস্তিনজুড়ে ৭০০ মানুষের আহত হয়েছে। এদিন ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে গাজা উপত্যকায় ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত ঘোষণায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার নীতির পরিবর্তনকে ইসরাইল স্বাগত জানালেও আরব এবং মুসলিম বিশ্ব নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্রদেশগুলোও কয়েকদশকের নীতি বদলে দেয়ার এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্বের অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ হচ্ছে। জর্ডান, মিসর, ইরাক, তুরস্ক, তিউনিশিয়া এবং ইরানে ফিলিস্তিনপন্থি হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছে। মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার মত মুসলিমপ্রধান বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইহুদি-খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পবিত্র ধর্মীয় স্থান জেরুজালেম। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই শহরটি। ১৯৬৭ সালে ইসরাইল বাহিনী পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয়। তারা চায় পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী করতে। আর ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য পূর্ব জেরুজালেমকেই রাজধানী করতে চায়। পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলের দখল আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের আগে কোনো দেশ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।