আইএসের সাথে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা, ইরাকে বিজয় মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাগদাদ: জঙ্গী গোষ্ঠী আইএসের সাথে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদী।

এক টিভি ভাষণে আল-আবাদী রবিবারে দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে সেদিন একটি বিজয় মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

২০১৪ সালে যে রক্তাক্ত লড়াইয়ের শুরু অবশেষে তার অবসান ঘটেছে।

দীর্ঘ চার বছর রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ইসলামিক জঙ্গী গোষ্ঠী আইএসের কবল থেকে নিজেদের ভূমি পূর্নদখল করেছে ইরাকি সেনারা।

সব এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রনে আসার পরই আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ইরাক।

ইরাকের এই যুদ্ধজয়ের ঘোষণার মাত্র দুইদিন আগে রাশিয়ার সৈন্যরা সিরিয়ায় আইএসকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার কথা জানিয়ে বলেছে, সিরিয়ায় তাদের অভিযান সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিরাট অঞ্চল দখল করে সেই অঞ্চলে ‘খেলাফত’ প্রতিষ্ঠা করার দাবী করে ইসলামী উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএস।

তবে গত দু’বছরে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো পরাজয় বরন করেছে এই গোষ্ঠী।

বিবিসি’র আরব অ্যাফেয়ার্স এডিটর সেবাশ্চিয়ান আশার মনে করছেন, ইসলামিক স্টেটের সাথে সরাসরি লড়াইয়ের সমাপ্তি হলেও মতাদর্শের লড়াই সহজে শেষ হবে না।

আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্ত হলেও, নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়ার জন্য, এখনো ছোটোখাটো মাত্রায় বিচ্ছিন্নভাবে আইএস যে বিভিন্ন সময়ে হামলা চালাতে পারে সেই আশঙ্কার কথাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

ওদিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদী বাগদাদে বলেছেন, ‘এই বিজয়কে সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। আর এ জন্য মুক্ত করা অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হবে এবং চাকরির সুযোগ তৈরি করতে হবে। এইসবের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ও সত্যিকারের জাতীয় সমন্বয় সাধন করতে হবে।’

ইসলামিক স্টেট যেনো নতুনভাবে আবারো মাথা চাড়া দিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

যুদ্ধের এই সমাপ্তিকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আইএসের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ চলবে।

আইএস-ইরাক যুদ্ধ নিয়ে কিছু তথ্য

•জানুয়ারি ২০১৪: আইএস সৈন্যদের ফালুজা ও রামাদি দখল

•জুন ২০১৪: ছয়দিন যদ্ধের পর মসুল দখল করে আইএস

•২৯ জুন ২০১৪: আবু বকর আল-বাগদাদিকে খলিফা করে নিজেদের নাম ইসলামিক স্টেট ঘোষণা করে আইএস

•আগস্ট ২০১৪: সিঞ্জর দখল। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ সিঞ্জর পর্বতমালার দিকে আত্মগোপন করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান আক্রমণ শুরু।

•মার্চ ২০১৫: ইরাকি সৈন্য ও তাদের শিয়া মিত্রবাহিনীর তিক্রিত পুনরুদ্ধার

•ডিসেম্বর ২০১৫: রামাদি পুনরুদ্ধার

•জুন ২০১৬: ফালুজা পুনরুদ্ধার

•অক্টোবর ২০১৬: ইরাকি সৈন্য, শিয়া মিলিশিয়া, কুর্দিশ সেনা ও আন্তর্জাতিক মিত্রবাহিনীর মসুল অবরোধ

•জুলাই ২০১৭: মসুল পুনরুদ্ধার

•ডিসেম্বর ২০১৭: আইএস’এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর

আইএসের উত্থান যেভাবে
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডল সামপ্রতিককালে অনেকটাই সরগরম। আরব শাসকগণ, তুর্কি এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র ইউরোপ রয়েছে একদিকে আর অন্যদিকে রয়েছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদ ও তার মিত্র রাশিয়া, ইরান ও চীন। ক্ষমতার দিক থেকে কেউ কারোর চেয়ে কম নয়। সিরিয়া আজ সংকটের জালে আবদ্ধ। এই সংকটে সিরিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্ব কে কতটা সফল হবে তা বলা দুষ্কর। পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আরব দেশগুলোর মধ্যে সিরিয়াই একমাত্র ইরান, রাশিয়া ও চীনের বিশ্বস্ত মিত্র।

তাই ইরান ও রাশিয়া কিছুতেই হারাতে চায় না এই মিত্রকে। সিরিয়ার বিষয়ে ইরান যথেষ্ট কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো মূল্যে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন ঠেকানোই ইরানের উদ্দেশ্য বলে বিশেষজ্ঞ মনে ধারণা থাকলেও আই এস আই-এর কর্মকাণ্ড এই সংকটকে অনেকটাই জটিল করে তুলেছে।

২০১১ সালে সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে আইএসআই এর একটা বড় অংশকে বিদ্রোহীদের সাহায্যার্থে সিরিয়া পাঠানো হয় যা আল নুসরা ফ্রন্ট নামেই পরিচিত। এই আল নুসরা ফ্রন্ট খুব দ্রুত সিরিয়ার রাক্কা ও আলেপ্পো প্রদেশে নিজেদের শাসন স্থাপন করে। ২০১৩ সালে বাগদাদি আল নুসরা ফ্রন্ট আর আইএসআই মিলিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট (আইএস আই এল) এর। তাই বলা যেতে পারে যে, সামপ্রতিক সিরিয়া সংকটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো আইএস আইএস (ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক এন্ড আল-সাম)-এর উত্থান।

ধারণা করা হয় আইএসআই-এর উত্থানের পরবর্তীকালে এর সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড সিরিয়া সংকটসহ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সৃষ্টি করেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। বস্তুত এ সংগঠনটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সিরিয়া সংকটকে একটি ভয়াবহ অবস্থানের দিকে নিয়ে গিয়েছে এবং যা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির চালকদের অনেকটাই ভাবিয়ে তুলছে। আইএস ২০০৪ সালে সন্ত্রাসবাদী জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার অন্যতম শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৪ সালের শুরুর দিকে আইএস আল-কায়েদার মূলধারা থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে হাজির হয়। সালাফি ও ওয়াহবি ইসলামি তত্ত্বে বিশ্বাসী ইরাক ভিত্তিক এই সংগঠনটি আধুনিকতাকে বর্জন না করে বরং তা গ্রহণ ও ব্যবহার করে যথেষ্ট পরিমাণে সাফল্য পাচ্ছে। আদর্শগত দিক থেকে আইএসের উদ্দেশ্য হলো অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদের মাধ্যমে ইসলামি খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। এরই প্রেক্ষিতে আইএস উত্তর ও পশ্চিম ইরাক এবং পূর্ব ও উত্তর সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো দখল করে ইসলামি খিলাফত রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে পদ্ধতিগত জায়গা থেকে আইএসের উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান উদারনৈতিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে শরীয়াহ আইনভিত্তিক রাজনৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করা। আর এই উদ্দেশ্য সিরিয়ায় বাস্তবায়ন করতে আইএস আই বেশ তত্পর।

সিরিয়ার সামপ্রতিক ঘটনাগুলো একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যেক আইএসআই কতটা অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে গেছে। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে ‘আইএসআইএল’ সিরিয়ার রাক্কা শহরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কথিত ফ্রি-সিরিয়ান আর্মির সেনাদের বিতাড়িত করে। সেখানে জঙ্গি এই গ্রুপ একটি স্থায়ী ঘাঁটিও গড়ে তোলে। রাক্কার জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় নানা ধরনের কঠোর ও চরমপন্থার শাসন। ফলে সেখানে প্রায়শ প্রকাশ্যে ঘটেছে হত্যাযজ্ঞ ও নানা ধরনের কঠোর শাস্তি যার শিকার হয়েছে নিরপরাধ বেসামরিক সিরীয় জনগণ। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থক ‘সিরীয় মানবাধিকার পর্যবেক্ষক’ সংস্থা বা এসওএইচআর বলেছে: ‘আইএসআইএল’ হচ্ছে উত্তর সিরিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপ। সিরিয়ার এই জঙ্গি গ্রুপকে ধ্বংস করতে আসাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলো তাদের তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাসার আল আসাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে রুশ বাহিনী হামলা শুরু করার পর এক সপ্তাহের মধ্যে আইএস সন্ত্রাসবাদীদের অন্তত ৪০ শতাংশ ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি রুশ আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিন হাজার আইএস জঙ্গি সিরিয়া ত্যাগ করেছে।

এই সময়কালে আইএস জঙ্গিরা নতুন করে কোনো এলাকা দখল দূরের কথা, বড়সড় কোনো হামলাও সংগঠিত করতে পারেনি। উল্টো রুশবাহিনীর বোমা-ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একের পর এক আইএস ঘাঁটি ধ্বংস হবার ফলে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই উত্সাহিত আসাদবাহিনী। সিরিয়ায় আইএস বিরোধী রুশ অভিযানের সাফল্যে উত্সাহিত ইরাকের মানুষও। ইতোমধ্যে ইরাকের সাংসদদের অনেকে রুশ সাহায্য চাইবার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেছে।

সিরিয়ার মত ইরাকেও আইএস বর্বরতা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও দখল করে নিয়েছে আইএস জঙ্গিরা। কিন্তু ইরাকে মার্কিন প্রভাব এতটাই প্রবল যে রুশ সহায়তা চাওয়া ইরাক সরকারের পক্ষে একরকম অসম্ভব। রুশ অভিযানের এই সাফল্যে সিরিয়া আইএস-সহ সমস্ত সরকার-বিরোধী সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন করে শক্তি ও মনোবল ফিরে পাবে সন্দেহ নেই। তেমনি ইরান, কিছুটা লেবানন ও ফিলিস্তিন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আশার আলো দেখার চেষ্টা করবে। শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে প্রত্যক্ষ রুশ সহায়তা না এলেও আইএস-র মেরুদণ্ড যেভাবে সিরিয়ায় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে তার কিছুটা হলেও ইরাকের মানুষ পাবে। কিন্তু সিরিয়ায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। বলা হচ্ছে রাশিয়া আইএস-এ নাম করে আসলে আসাদ বিরোধীদের ওপর হামলা চালিয়ে আসাদ-জমানাকে নিষ্কণ্টক ও স্থায়ী করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া তারা সাধারণ সিরীয়দেরও হত্যা করছে।

যদিও এই ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ নেই। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে পুতিন চায় আসাদ সরকারকে শক্তিশালী করতে এবং এটা নিশ্চিত করতে যে সিরিয়ার একটি অংশ আসাদ সরকারের পুরো নিয়ন্ত্রণে আছে। এটা করার জন্য তারা তুরস্ক, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং পশ্চিমাদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের ওপর ব্যাপকহারে বিমান হামলা চালাচ্ছে। বিমান হামলার সুফলও পেতে শুরু করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে সিরিয়ায় গোলক ধাঁধায় পড়েছে পশ্চিমারা। সিরিয়ায় নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে পারছে না তারা। আসাদ বিরোধীদের মাঝে খুব শক্ত অবস্থানে আছে আল কায়েদা জঙ্গিগোষ্ঠী। ফলে আসাদ বিরোধীদের সাহায্য করলে আল কায়েদার অবস্থানও শক্তিশালী হবে। যা তাদের কাম্য নয়। পশ্চিমাদের মূল লক্ষ্য সিরিয়ায় আইএসকে দমন করা। কিন্তু তাদের মিত্র সৌদি আরব ও তুরস্কের মূল লক্ষ্য আসাদ সরকারকে উত্খাত করা। আইএস তাদের প্রধান শত্রু নয়। তাদের প্রধান শত্রু বাশার আল আসাদ। আবার পশ্চিমারা সিরিয়ায় কুর্দিদের সাহায্য করছে। সিরিয়ায় তাদের অন্যতম মিত্র কুর্দিরা। কিন্তু তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলো চায় না কুর্দিরা কোনোভাবেই শক্তিশালী হোক। তুরস্ক কুর্দিদের হুমকি মনে করে। সিরিয়া যুদ্ধে পশ্চিমাদের ন্যায় দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়তে হচ্ছে না পুতিনকে। সিরিয়া দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তার ফলে একটি অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে আসাদ বাহিনী। বাকি অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে আইএসের হাতে। আর তথাকথিত মডারেট বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনে হস্তক্ষেপের পর ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী স্থিতিশীল অবস্থা কেটে গেছে। ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক টহল ন্যাটোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আস্তে আস্তে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। এদিকে সিরিয়া আক্রমণের ব্যাপারে আমেরিকার কূটনৈতিক তত্পরতা পূর্বের থেকে আরো বেশি জোরদার হচ্ছে। সিরিয়া আক্রমণের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা আহ্বান করলেও আমেরিকাসহ ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোতে সিরিয়া আক্রমণের ব্যাপারে ব্যাপক জনবিরোধিতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া সংকটের সমাধানে নতুন আশা উঁকি দিলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কেউই।

ওবামা-পুতিন বৈঠকে সিরিয়া বিষয়ে চুক্তির ব্যাপারটি সামনে আসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের আলোচনার পর। জি২০ সম্মেলনের পূর্বে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক ও আলোচনায় সিরিয়া ইস্যুতে ঐক্যমতে পৌঁছার আভাস দেওয়া হয়েছিল। দুই মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, উভয় দেশই সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ হোক, এটাই চায়। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের ধৈর্য হারানোর পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সিরিয়ায় একটি শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর জেনেভায় দুই নেতা বৈঠক করেন। উল্লেখ্য যে, চীনে অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকে সিরিয়া প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে সিরিয়ার শান্তি আলোচনা নিয়ে যারা আশাবাদী ছিলেন তারা বেশ হতাশ। কিন্তু গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর জেনেভায় দুই নেতা বৈঠক করার পর থেকে ফের সিরিয়ার অস্ত্রবিরতি নিয়ে প্রত্যাশা শুরু হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।