ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কায়রো: পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আরব লীগ। খবর দ্য বোস্টন গ্লোবের।

শনিবার মিসরের কায়রোতে ২২টি দেশের জোট আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠক থেকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা ‘বিপজ্জনক ও অন্যায্য’ বলেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর জোট আরব লীগ। জোটের শঙ্কা, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে ‘সন্ত্রাস ও হানাহানিকে’ উসকে দেবে।

ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি তেলআবিব থেকে নিজেদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার তিন দিন পর ২২টি দেশের জোট আরব লিগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠকে এ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়।

মিসরের কায়রোতে এক ঘণ্টার এই বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডানের মতো দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। যদিও এই দেশগুলো আগেই নিজস্ব অবস্থান থেকে ট্রাম্পের ঘোষণার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভাষণে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে আরব বিশ্ব নিন্দা জানালেও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর পর থেকেই ফিলিস্তিনজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

আরব লীগের বৈঠক থেকে জাতিসংঘকে এ ব্যাপারে ভূমিকা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। আরব লিগ বলছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেবে।

জেরুজালেম পবিত্র ভূমি হিসেবে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয়ের কাছেই গণ্য। এর দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দ্বন্দ্বও বহু পুরোনো। ইসরাইল সব সময়ই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে, পাশাপাশি পূর্ব জেরুজালেম ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে বলে দেশটির নেতারা বলে আসছেন।

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্তটি কিন্তু বেশ পুরোনো। ১৯৯৫ সালেই মার্কিন কংগ্রেস অনুমোদিত এক আইনে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সাবেক সব প্রেসিডেন্টই ক্ষমতায় থাকাকালীন ওই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার জন্য স্বাক্ষর করেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একই পথে হেঁটেছিলেন ট্রাম্পও। তবে এবার বেঁকে বসেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস স্থানাস্তর বিলম্বের জন্য প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের শেষ দিন। আর এদিন স্বাক্ষর করবেন না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে ১৯৮০ সালে তারা পূর্ব জেরুজালেমকে অধিগ্রহণ করে নেয় এবং ইসরাইলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলকে দখলকৃত হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।