‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বিক্ষোভে মার্কিন তারকা বেলা হাদিদ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লন্ডন: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতির জন্য ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লন্ডনে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন মার্কিন তারকা বেলা হাদিদ।

সোমবার রাতে তিনি সরাসরি লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিট থেকে মার্কিন দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ২১ বছর বয়সী এই মডেলও হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দেন।

তার বহন করা প্ল্যাকার্ডে লিখা ছিল, ‘মুক্ত প্যালেস্টাইন: ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান হোক’। তিনি তার সন্ধ্যাকালীন গাউন পরে রাতের প্রথম প্রহর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।

হাদীদের এটাই প্রথম প্রতিবাদে অংশ নেয়া নয়। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধের জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রতিবাদে তিনি এবং তার বোন গিগি হাদিদ নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।

হাদিদ তার নিজেকে একজন মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। হাদিদের বাবা একজন ফিলিস্তিনি। তার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে।

সম্প্রতি তিনি তার ইনস্টাগ্রামে প্যালেস্টাইনীদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইচ্ছে প্রকাশ করেন।

হাদিদ তার ইন্সট্রাগ্রামে লিখেন, ‘আমি নিখুঁত শব্দের মাধ্যমে লেখার জন্য অপেক্ষা করছি কিন্তু আমি অনুভব করতে পারছি যে, এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য নিখুঁত কোনো উপায় নেই। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি দিন। ফিলিস্তিদের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের সংবাদ ফিলিস্তিনের বহু প্রজন্মের মতো আমারও কান্না পাচ্ছে।’

তিনি লিখেন, ‘আমার বাবা, কাজিনদের ও ফিলিস্তিনি পরিবারের দুঃখ যা আমার লেখাকে আরো কঠিন করে দিয়েছে। সব ধর্মের ঠিকানা হচ্ছে জেরুজালেম। আমি অনুভব করছি, এই ঘটনা আমাদেরকে ৫ ধাপ পিছিয়ে দিয়েছে এবং শান্তির বিশ্বে বসবাস করাকে কঠিন করে তুলেছে।’

তিনি আরো লিখেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর বল প্রয়োগ অন্যায়, একতরফা এবং তা সহ্য করা উচিত নয়। আমি প্যালেস্টাইন বাসীর পাশে রয়েছি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা নেই … কোনো পক্ষপাত নেই … সকল ধর্ম পাশাপাশি অবস্থান করুক।’

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভাষণে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে আরব বিশ্ব নিন্দা জানালেও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর পর থেকেই ফিলিস্তিনজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

সূত্র: মেট্রো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।