বিশ্বের নিপীড়িত জনতার ত্রাণকর্তা এরদোগান

বিশ্বের নিপীড়িত জনতার ত্রাণকর্তা এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ভূমিকাকে যুগান্তকারী হিসেবে বর্ণনা করেছে একটি ফরাসি দৈনিক।

বুধবার ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরি সম্মেলন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে জেরুজালেমকে পাল্টা ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি ওআইসি জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃত দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে আবারো দুই রাষ্ট্র সমাধানের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের সমস্যার সমাধান হতে হবে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে। ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারন বন্ধে জাতিসংঘকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।’

ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ডাকা এই সম্মেলেনে এসে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রকে ধিক্কার জানান।

ফ্রান্সকে বরাবর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে দেখা হয়। মধ্যপ্রাচ্য নীতিতেও প্যারিস মার্কিন সিদ্ধান্তকেই অনুসরণ করে। কিন্তু জেরুজালেম ইস্যুতে হঠাৎ করে সেই নীতিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে বরাবরই জেরুজালেমকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত প্রতিফলিত হচ্ছিল। পত্রিকাগুলো আবার সিরিয়া ও অন্য স্থানগুলোয় শান্তির কথাও বলে আসছিল।

কিন্তু ওআইসির সম্মেলন থেকে স্বীকৃতির পর ফ্রান্সের ‘লাকরোয়া’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছে, জেরুজালেমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার প্রতিবাদে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা এবার জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানীর স্বীকৃতি দিয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনটি ট্রাম্পের উল্লিখিত সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে।

ফরাসি পত্রিকা ‘লামন্ড’ সম্মেলনের কৃতিত্ব দিয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানকে। পত্রিকাটির ভাষায়, এরদোগান এই সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নিপীড়িত মুসলমানের পক্ষে প্রতিরোধকারী’ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। এমনকি শীর্ষ সম্মেলনটির পটভূমিতে মুসলিম বিশ্ব মনে করছে, তুরস্ক সৌদি আরবের শূন্যস্থান পূরণ করছে।

আর ‘লিবরাসিউন’ পত্রিকার মতে, আঙ্কারা এ ইস্যুতে সৌদি আরবের চেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। অথচ ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওআইসি সৌদির তত্ত্বাবধানেই চলে আসছিল।

পত্রিকাটি বলছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে রিয়াদ নিজেকে খুব বিব্রত মনে করছে। কারণ নতুন স্ট্র্যাটেজিতে ইরানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রিয়াদ ইসরাইলের কাছে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফ্রান্সের আরো কিছু পত্রিকার মতে, ইসরাইলিরা তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে চোখ ফিরিয়ে জেরুজালেমকেই ইসরাইলের একক ও স্থায়ী রাজধানী হিসেবে পেতে একমত।

তবে লামন্ড পত্রিকা বলছে, ইসরাইলিদের অনেকে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তারা মনে করেন, জেরুজালেম উভয় দেশেরই রাজধানী হওয়া উচিত। কিন্তু, দেশদ্রোহী অপবাদের আশঙ্কায় তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারছেন না।

এদিকে মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ছয় দিন ধরে চলছে বিক্ষোভ। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য পেড়িয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত। মঙ্গলবার বিক্ষোভ হয়েছে জার্মানির বার্লিনে। শহরের মূল রেলস্টেশনে এদিন বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়।

প্যালেস্টাইনের রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ছয় দিনের বিক্ষোভের সময় পশ্চিম তীর আর গাজা উপত্যকায় তারা এক হাজার ৭৯৫ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।