ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তকে বৈধ ঘোষণা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান অভিশংসন তদন্তের আইনি বৈধতা দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সেই সঙ্গে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে সাবেক স্পেশাল কাউন্সেলর রবার্ট মুলারের তদন্ত রিপোর্ট অভিশংসন তদন্তকারীদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে শুক্রবার এ বিষয়ে এক শুনানির পর ফেডারেল বিচারক বেরিল হাওয়েল ঘোষণা করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিশংসন তদন্ত আইনত বৈধ।

এজন্য আইনপ্রণেতাদের আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রস্তাব পাসের দরকার নেই। এছাড়া অভিশংসন তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে মুলারের তদন্ত রিপোর্ট হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির কাছে জমা দিতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক হাওয়েল।

এজন্য আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। আদালতের এ রায়কে বিরোধী ডেমোক্রেটিক নেতাদের জন্য আরেকটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এটাকে ট্রাম্পের জন্য ‘বড় আঘাত’ অভিহিত করেছেন হাউস স্পিকার ও ডেমোক্র্যাট নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি। ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিচার বিভাগকে ট্রাম্প রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

ইউক্রেন কেলেঙ্কারির জেরে ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের সূত্রপাত হয়। যার কেন্দ্রে রয়েছে ২৫ জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোনে আলাপচারিতা। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের অতীত ব্যবসার দুর্নীতির তদন্তের জন্য জেলেনস্কিকে চাপ দেন ট্রাম্প।

বিনিময়ে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ সহায়তা তহবিল অনুমোদন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ কথোপকথনের তথ্য ফাঁস করে দেন সিআইএ’র অজ্ঞাতনামা এক কর্মকর্তা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শপথ ভেঙেছেন, এমন অভিযোগে তার অভিশংসন তদন্ত শুরু করে প্রতিনিধি পরিষদ।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের সব এখতিয়ারই রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের। এক্ষেত্রে কংগ্রেসে কোনো ভোটাভুটি ছাড়াই তদন্ত শুরু করে ডেমোক্র্যাট নেতারা।

কিন্তু এ তদন্তের শুরুতেই এর বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান শিবির। তদন্ত কার্যক্রমকে ‘একপেশে, অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ দাবি করে হোয়াইট হাউস সরাসরি জানিয়ে দেয়, প্রেসিডেন্ট বা তার প্রশাসন এই তদন্তে কোনো ধরনের সহায়তা করবে না।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও আনুষঙ্গিক নথিপত্র চেয়ে তদন্ত কমিটি থেকে বারাবার তাগাদা দেয়া হলেও অসহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে হোয়াইট হাউস।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।