আইওয়াতে ভোট গণনায় কী গোলমাল হলো?

নিউজ ডেস্ক: ভোট হয়ে গেছে, ফলাফল জানানো হচ্ছে না। কেন? জানা গেল ‘টেকনিক্যাল সমস্যা।’ সোমবারের ভোটের পুরো ফলাফল এখনো জানানো হয় নি।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কে হবেন তা নির্ধারণের জন্য আইওয়া রাজ্যে যে ‘প্রাইমারি’ বা প্রথম পর্বের ভোটাভুটি হচ্ছিল – তাতে এমনটাই ঘটেছে।

মার্কিন নির্বাচনে এরকম ঘটনার কথা সচরাচর শোনা যায় না।

আইওয়া রাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ট্রয় প্রাইস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, এবং আমি এ জন্য গভীরভাবে দু:খ প্রকাশ করছি।”

এখন পর্যন্ত যে ফলাফল এসেছে তা ৭১ শতাংশ ককাস থেকে – তাতে সামান্য ব্যবধানে বার্নি স্যান্ডার্সের চেয়ে এগিয়ে আছেন পিট বুটিজেজ, এবং এটাও অনেককে বিস্মিত করেছে।
ভোটের ফল প্রকাশ নিয়ে এই গোলমালের কারণটা কী?

ট্রয় প্রাইস জানান, নির্বাচনের ফল জানানোর একটি এ্যাপের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই এমনটা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ভোটের সব উপাত্ত সুরক্ষিত আছে এবং এই গোলমাল কেন হলো – এর এক পূর্ণ অনুসন্ধান হবে।

আইওয়া অঙ্গরাজ্যের পার্টি কর্মকর্তারা বলেছেন, কোন হ্যাকিং বা সিস্টেমে কোন অনুপ্রবেশের কারণে এটা ঘটেনি।

অঙ্গরাজ্যের ১ হাজার ৬শ নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটাভুটির ফল পার্টির কাছে রিপোর্ট করার জন্য একটি মোবাইল এ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছিল – যা ক্র্যাশ করেছে বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এখন কর্মকর্তারা ভোটাভুটির কাগজে লেখা আসল দলিলপত্র বা ‘হার্ড কপি’ পরীক্ষা করে দেখছেন।

এ্যাপটি বানিয়েছে শ্যাডো নামে একটি ফার্ম । ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারাভিযানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাই এটি বানিয়েছেন।

তবে মাত্র দু মাস আগে তৈরি করা এ্যাপটি যথাযথভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয় নি বলে জানিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

তবে আমেরিকান সংবাদমাধ্যমে এবং ভোটারদের মধ্যে এই প্রাইমারির ফলাফল নিয়ে তৈরি হয় নজিরবিহীন বিভ্রান্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আইওয়া রাজ্যের ভোটকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। অনেকে দাবি করেছেন এ ঘটনার পর ওই রাজ্যের শীর্ষ মর্যাদা কেড়ে নিতে হবে।

নেভাদা অঙ্গরাজ্যে ২২ শে ফেব্রুয়ারির ভোটেও এই এ্যাপ ব্যবহারের কথা ছিল , কিন্তু সেখানকার পার্টি সে সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে।

রিপাব্লিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আইওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের এই ভোটাভুটি ছিল এক দুর্যোগ।
কে এই পিট বুটিজেজ?

ইন্ডিয়ান রাজ্যের ছোট শহর সাউথ বেন্ডের সাবেক মেয়র পিট বুটিজেজের বয়স মাত্র ৩৮।

তিনি পরিষ্কার করেই জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি একজন সমকামী।

তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হন তাহলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সমকামী প্রেসিডেন্ট।

তিনি পড়াশোনা করেছেন হার্ভার্ড ও ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, তার পর সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে আফগানিস্তানে কাজ করেছেন। অনেকগুলো ভাষা জানেন তিনি।

তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বলছেন, তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট হবার মতো অভিজ্ঞতা নেই।

তবে আইওয়া প্রাইমারির এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলে দেখা যাচ্ছে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বার্নি স্যান্ডার্সের চাইতে সামান্য ব্যবধানে হলেও এগিয়ে আছেন তিনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো – বহু জনমত জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে যিনি এগিয়েছিলেন, সেই বারাক ওবামার সময়কার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইওয়ার ফলাফলে বহু পিছিয়ে আছেন।

বুটিজেজ পেয়েছেন ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট, বার্নি স্যান্ডার্স ২৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।