‘ফটোস অব দ্য ইয়ারে’ এরদোগানের ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম অ্যানদোলু এজেন্সির ‘ফটোস অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতায় শুক্রবার ভোট দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

বছরের সেরা ছবি হিসেবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে ওঠা ফিলিস্তিনি কিশোরের ছবিতে ভোট দেন এরদোগান।

‘নিউজ ক্যাটেগরি’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত আনাদোলু এজেন্সির ফটোসাংবাদিক উইসাম হাসলামানের তোলা ছবিটির জন্য এরদোগান ভোট দেন।

ছবিতে দেখা যায়, ১৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোর ফেজবি আল-জুনাইদিকে চোখ বেঁধে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৭ ডিসেম্বর পশ্চিম তীরের হেব্রোনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে তাকে আটক করা হয়।

এছাড়াও, এরদোগান জীবন এবং ক্রীড়া বিভাগেও ভোট দেন। তিনি ‘কোস্টাক’ নামে এ একটি কুকুরে ছবিটি বেছে নেন। একটি গাড়ির আঘাতে কুকুরটির পিছনের পা প্যারালাইজ হয়ে গেছে। কুকুরটিকে এখন একটি শপিং কার্টের সঙ্গে সেট করা একটি যন্ত্রের সাহায্যে হাঁটতে হয়। ছবিটি ফটো জার্নালিস্ট জাকারিয়া কারাদাভুত কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল।

স্পোর্টস বিভাগে, গত ৯ অক্টোবর ইস্তানবুলে তুরস্ক ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর উদযাপনরত তুর্কি ফুটবল খেলোয়াড় আব্দুল্লাহ কসকুনের ছবিটিতে ভোট দেন।

আল-আকসার সমর্থনকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি: এরদোগান
জেরুজালেম ইস্যুতে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকে অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘বাতিল ও প্রত্যাখ্যান’ করে একটি রেজ্যুলেশন পাস হওয়ায় তিনি এটিকে ‘অত্যন্ত আনন্দের’ বলে মন্তব্য করেন।

এরদোগান তার টুইটারে লিখেছেন, ‘আমরা আল-কুদস আল-শরীফের ঐতিহাসিক প্রস্তাবের পক্ষে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অভূতপূর্ব সমর্থনকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানাচ্ছি।’

‘আমরা আশা করি ট্রাম্প প্রশাসন তার দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিবে। তাদের সিদ্ধান্তটি যে অবৈধ ছিল তা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটের ফলাফলে পরিষ্কারভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’এরদোগান লিখেন।

এরদোগান আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিন ও আল-কুদস আল-শরীফের সমর্থনকারী সকলের প্রতি আমি আমার নিজের এবং তুর্কি জনগণের পক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অপর একটি বিবৃতিতে, তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেন, জাতিসংঘের রেজুলেশন এই অঞ্চলে শান্তি প্রচেষ্টার জন্য একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

ইলদিরিম বলেন, তুরস্ক সব সময়েই ফিলিস্তিনি ভাই, মানবতা, জেরুজালেম, ন্যায়বিচার এবং নিপীড়িতদের পাশে থাকবে।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের পরাজয়হীন মুক্তিযুদ্ধ
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের জন্মের ৩০ বছর পূর্ন হলো এমন এক সময় যখন জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মুসলিম বিশ্ব বিক্ষুদ্ধ। ও আইসি পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করেছে। হামাস বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। হামাস ও ফাতাহর মধ্যে এই প্রথম রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে। গাজার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন মাহমুদ আব্বাসের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।কিন্তু হামাসের সশস্ত্র লড়াইয়ের স্বাধীনতা তাদের থাকছে।এমন পরিস্থিতিতে গাজায় বেসামরিক লোকজনের ওপর ইসরাইলের বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রয়েছে। আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। উদ্দেশ্য খুবই স্পষ্ট, যতটা সংখ্যক ফিলিস্তিনির সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়। বেসমারিক হোক বা প্রতিরোধ যোদ্ধা, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের যেকোনো উপায়ে হত্যা ইসরাইলের অঘোষিত কোনো নীতি নয়। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে কিছু দিন পরপর এভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। ফলে এধরনের হত্যাকাণ্ড নতুন নয়।

যে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যা করতে হবে এই মানসিকতা দিয়ে ইসরাইল নাগরিকদের গড়ে তুলছে। হামাসের হামলায় নিহত ইসরাইলি সৈন্য মোশে মালকুর লাশ দাফনের পর তার এক বন্ধু গার্ডিয়ানকে বলছিলেন Hamas killed my friend; we need to kill them – not just the Hamas militants but all the people in Gaza,” গাজার সাধারন নাগরিকদের হত্যা প্রকৃতপক্ষে এই মানসিকতার বহি:প্রকাশ। প্রশ্ন হলো, হামাসের এই প্রতিরোধের লড়াই কার সাথে? শুধুই কী ইসরাইলের সাথে? না, আসলে তো পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এফ – ১৬ যুদ্ধবিমানগুলো তো মার্কিন যুদ্ধবিমান। ইসরাইলের সামরিক ব্যয়ের,বেশির ভাগ দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যে জনগোষ্ঠী ইসরাইলের সাথে লড়াই করছে, তাদের জন্য পশ্চিমা বিবেক কাঁদবে এমন আশা করা যায় না।

বাস্তবতা হচ্ছে, এভাবে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকতে হবে, সেটাই আত্মরক্ষার পথ। মধ্যপ্রাচ্য শান্তির নামে একাধিক চুক্তি হয়েছে। এর বিনিময়ে ফিলিস্তিনিরা হারিয়েছে স্বজন আর ভূখণ্ড। ১৯৯৩ ও ১৯৯৫ সালে অসলোতে চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়নে ২০০০ সালে ক্যাম্প ডেভিডে, ২০০৩ সালে তাবায়, ২০০৭ সালে আনাপোলিসে এবং ২০১০ সালে ওয়াশিংটনে আলোচনা হয়েছে কিন্তু ফলাফল শূন্য। না, শূন্য বলা ঠিক হবে না। এখন জেরুসালেমকে রাজধানী ঘোষনা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
২০ বছরের আলোচনার নামে যা হয়েছে তাতে সবই ইসরাইলের অর্জন। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড ধীরে ধীরে কমে এসেছে। দখলদারিত্ব বেড়েছে। জবরদখল করা জমিতে ৫৩ হাজার ইসরাইলি সেটেলারের বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। ১৫ হাজার ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আরো সাড়ে চার হাজার বাড়ি ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ফিলিস্তিনিদের এই জমি দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলে ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্টার পর থেকে। যার ধারবাহিকতা এক দিনের জন্য থামেনি।

অসলো চুক্তির পর ফাতাহ গেরিলা যুদ্ধ পরিত্যাগ করেছে। কিন্তু স্বপ্নের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা যায়নি। কারণ ইসরাইল রাষ্ট্রের কোনো সীমানা নেই। যেখানে ফিলিস্তিনি বসতি সেখানে ইসরাইলের সীমানা। শান্তিচুক্তির পর ফাতাহর প্রতিষ্ঠাতা কিংবদন্তিতুল্য গেরিলা যোদ্ধা ইয়াসির আরাফাত রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন। পরে তদন্তে দেখা গেছে, বিষ প্রয়োগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সন্দেহের তীর এখনো ইসরাইলের দিকে।

ফিলিস্তিন নামক ভূখণ্ড এখন চার দিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সমুদ্রে যাতে মাছ ধরতে না পারে সেজন্য ইসরাইলি গানবোট সারাক্ষণ পাহারায় থাকছে। গাজার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ইসরাইলি কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে হামাস সরকার গঠনের পর, ২০০৬ সাল থেকে চলছে গাজার ওপর অবরোধ। গাজার মানুষের নিত্যদিনের চাহিদা পূরল হয় সুড়ঙ্গ পথে। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা-নেয়া মালামালের মাধ্যমে। এভাবে একটি জনবসতি কত দিন টিকে থাকবে। হয় তাদের ইসরাইলের কাছে আত্মসমর্পণ করে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে অথবা প্রতিরোধ লড়াইয়ের মাধ্যমে টিকে থাকতে হবে।

ফিলিস্তিনিরা বিশেষ করে গাজার অধিবাসীরা এই লড়াইয়ের পথ থেকে সরে আসেনি। অপর দিকে এই লড়াইকে শুধু ভয় পায় ইসরাইল। এ কারণেই হামাসকে নির্মূল করতে চায় ইসরাইল। নারী ও শিশুদের হত্যা কিংবা হাসপাতালে হামলা করে ইসরাইল যেমন ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা কমিয়ে আনতে চায়, তেমনি হামাস যোদ্ধাদের মনোবল ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু এতে ইসরাইলের অর্জন খুব সামান্যই। কারণ হামাসের সামরিক শাখা গড়ে উঠেছে প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে। যার নামের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ সৈন্যদের গুলিতে নিহত সিরিয়ান মুক্তি আন্দোলনের নেতা শহীদ ‘এজ্জেদিন-আল-কাসসাম’-এর নাম অনুসারে এ সামরিক শাখার নাম দেয়া হয় ‘আল কাসসাম’ বিগ্রেড। আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা এই মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৯২ সাল থেকে এই ব্রিগেড অপারেশন শুরু করে। শুধু গাজাতেই হামাসের অন্তত ১০ হাজারের বেশি যোদ্ধা রয়েছে। প্রথাগত সেনাবাহিনীর মতো কোম্পানি, ব্যাটালিয়ন ও ব্রিগেড বিভক্ত রয়েছে। নর্দার্ন গাজা বিগ্রেড, গাজা বিগ্রেড, সেন্ট্রাল গাজা বিগ্রেড এবং সাউর্দার্ন গাজা বিগ্রেড নামে আল-কাসসামের চারটি বিগ্রেড আছে।

আল কাসসাম বিগ্রেড ২০০১ সালের ২৬ অক্টোবর স্থানীয়ভাবে তৈরি রকেট দিয়ে ইসরাইলের স্থাপনায় হামলা চালায়। এই রকেটের নাম ছিল ‘কাসসাম-১’। এই রকেট তৈরির পর টাইম ম্যাগাজিনের শিরোনাম ছিল ‘একটি পুরনো রকেট, যেটি মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে পারে।’ সত্যিই হামাসের এই রকেট এখন ইসরাইলের মাথাব্যথার কারণ। এই রকেটের মাধ্যমে হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নতুন রূপ দিতে সক্ষম হয়। অল্প দিনের মধ্যেই এই রকেটের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়। ‘কাসসাম-২’ উদ্ভাবিত হয়, যেটি ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যবহার করা হয়। কাসসাম ব্রিগেড এখন ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে সম রকেট তৈরি করেছে। এর মধ্যে ২০১২ সালের গাজার সাথে যুদ্ধে এম-৭৫ ব্যবহার করে। এ মাসের যুদ্ধে তারা ইসরাইলের হাইফা শহরকে লক্ষ্য করে আর-১৬৯ রকেট ব্যবহার করেছে। বিস্ময়করভাবে আল কাসসাম ১৪ জুলাই ইসরাইলের ভেতরের বিশেষ অপারেশনে অংশ নিতে সম এরকম তিনটি ড্রোন নির্মাণের ঘোষণা দেয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনীর মতো আল কাসসাম বিগ্রেডের ইঞ্জিনিয়ারিং, এরিয়াল, আর্টিলারি এবং আত্মঘাতী স্কোয়াড রয়েছে। চলমান যুদ্ধে তাদের নৌসেনাদের একটি দল ইসরাইলের আস্কেলন শহরে অবস্থিত সুরতি জাকিম সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করে প্রথম অপারেশনের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের মোকাবেলার জন্য আল কাসসাম বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধন করেছে। মিলিটারি শাখা ‘আল-বাত্তার’, ‘আল-ইয়াসিন’ নামে কামান বিধ্বংসী গোলা তৈরি করেছে, যেটি ইসরাইলের প্রবাদতুল্য মেরকাভা কামান ধ্বংস করতে সক্ষম।

কাসসাম ব্রিগেড ইসরাইলের কিছু সেনাকে আটক করতে সক্ষম হয়। যার মধ্যে একজন ছিল গিলাত শালিত। ২০০৫ সালে কর্তব্যরত তাকে আটক করে। ২০১১ সালে এক হাজার ৫০ বন্দী ফিলিস্তিনির বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেয়।

অপরাপর মুক্তি রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে হামাসের যথেষ্ট পার্থক্য আছে। এই দলের নেতারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দলের আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমদ ইয়াসিনকে হত্যা করেছে। আবদুল আজিজ রানতিসির মতো দক্ষ সংগঠক ও প্রভাবশালী নেতা নিহত হয়েছেন। সাবেক প্রধান খালেদ মিশাল একাধিকবার ইসরাইলি গুপ্ত হামলার শিকার হয়েছেন। হামাসের একজন কর্মী জানেন, তার এই লড়াই কোনো স্বার্থ অর্জনের জন্য নয়, এই লড়াই মাতৃভূমি রক্ষার লড়াই। ফলে এই লড়াইয়ের যেমন শেষ নেই তেমনি নেই পরাজয়।

প্রশ্ন হলো ইসরাইলি নজরদারির মধ্যে হামাস যোদ্ধারা কোথায় থাকে আর কিভাবেইবা চলাফেরা করে? অপরাপর মুক্তিযুদ্ধে যোদ্ধারা যেভাবে শার্কের মুখের সামনে পাইলট ফিসের মতো ঘুরে বেড়ায়। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারাও সাধারণ মানুষের মাঝে অবস্থান করে। ইসরাইলের অভিযোগ গাজায় টানেলের মধ্যে হামাস যোদ্ধারা অবস্থান করে। কিন্তু ইসরাইলের গোয়েন্দা ব্যর্থতা হচ্ছে এই টানেলের কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না। প্রকৃতপক্ষে হামাস যোদ্ধারা গাজায় এতটাই জনপ্রিয় যে, গাজায় ইসরাইলের গোয়েন্দা কার্যক্রম কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।