নেতানিয়াহুকে ইসরাইলি তরুণদের কড়া চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেল আবিব: এবার নিজ দেশের তরুণরা নেতানিয়াহুর দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়েছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবার একটি চিঠি লিখেছেন ৬৩ জন ইসরাইলি কিশোর। চিঠিতে তারা ফিলিস্তিনে ইসরাইলের দখলদারিত্বে অংশগ্রহণ না করার কথা জানিয়েছেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও চিঠিটি সেনা প্রধান গাদি আইজেনকট, প্রতিরক্ষা ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবরও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনি জনগণকে শোষণের অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। সাময়িক পরিস্থিতি আমাদের ৫০ বছরের সংঘাতে লিপ্ত করেছে। আমরা আর কখনও এই কাজে হাত বাড়িয়ে দেব না।

কলেজ পড়ুয়া এসব কিশোররা চিঠিতে সরকার ও সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছেন। লিখেছেন, সেনাবাহিনী সরকারের বর্ণবাদী নীতি বাস্তবায়ন করছে। যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা ইসরাইলের জন্য এক ধরনের আইন এবং একই ভূখণ্ডে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা আইন প্রয়োগ করছে।

নিরাপদ অঞ্চলের উভয় পাশে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রাতিষ্ঠানিক প্ররোচনার প্রতিবাদ করেছেন তারা। লিখেছেন, আমরা সেনাবাহিনীতে নিয়োগে উপযুক্ত বয়সের ছেলে ও মেয়ে যারা দেশের বিভিন্ন স্থান ও ভিন্ন আর্থসামাজিক অবস্থান থেকে বেড়ে ওঠেছি তারা প্ররোচনা ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করছি এবং সরকারের নিপীড়ন ও দখলদারিত্বে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।

চিঠিতে ইসরাইলের কিশোরদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা লিখেছেন, আমরা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি শান্তি, ন্যায় ও সমতার প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে। আমরা জানি, আরেকটি বাস্তবতা রয়েছে যা আমরা একত্রিত হয়ে গড়ে তুলতে পারি। আমাদের বয়সের ছেলে-মেয়েদের ভেবে দেখা উচিত যে, সেনাবাহিনী কি এই লক্ষ্যে কাজ করতে পারবে?

যারা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন তাদের মধ্যে ২০ বছরের মাতান হেলমান রয়েছেন। যিনি সেনাবাহিনীতে যোগদানে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে কারাভোগ করছেন।

ডিসেম্বর মাসের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসরাইলের সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয় তারা সেনা সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নতুন নিয়োগ শুরু করবে। বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রবণতা নিম্নগামী এবং প্রতিবছর সেনাবাহিনী ছেড়ে চলে যাওয়া ছেলে-মেয়ের সংখ্যা ৭ হাজার।

সূত্র: হারেৎজ।