‘আল আকসা কম্পাউন্ডকে তিন টুকরোর ষড়যন্ত্র রুখতে আমরা প্রস্তুত’

হামাসের বর্ষপূর্তির সমাবেশে ইসমাইল হানিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা: ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ইস্যুর ‘অপমৃত্যু’ ঘটানো বলে সর্তক করেছেন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

মঙ্গলবার গাজা সিটিতে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনি উপজাতীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে হানিয়া এসব কথা বলেন।

হানিয়া বলেন, ‘জেরুজালেম নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন সিদ্ধান্ত তথাকথিত ‘শতাব্দী চুক্তি’র প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনি ইস্যুর অপমৃত্যু ঘটনোর চলমান প্রচেষ্টার একটি অংশ।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত এই পদক্ষেপ সম্পর্কে হানিয়া বলেন, ‘এটি সমগ্র অঞ্চলের পুনর্নিমাণ এবং জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য আরব ও মুসলিম জাতির শক্তি ক্ষয় করার ইঙ্গিত বহন করছে।’

হানিয়া জানান, মার্কিন পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা তথ্য পেয়েছেন আর সেটি হচ্ছে পূর্ব জেরুজালেমের নিকটবর্তী ফিলিস্তিনি গ্রাম ‘আবু দিজ’কে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রস্তাব দেয়া হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আল-আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডকে সংযুক্ত করে আবু দিজ থেকে ব্রিজ নির্মাণের দৃশ্যমান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এছাড়াও, আল আকসা মসজিদ কম্পাউন্ডকে তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব শহর থেকে পবিত্র শহরটিতে স্থানান্তরের নির্দেশ জারি করেন।

বায়তুল মুকাদ্দাস বিষয়ে নেয়া ট্রাম্পের তড়িৎ নীতির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ বিশ্ব সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরাইল-মার্কিন বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে।

এছাড়া, ট্রাম্পের স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বেশিরভাগ দেশ ভোট দিয়েছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পিছু না হটে জেরুজালেম নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

গত ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে জেরুজালেম ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৭২ দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘বাতিল ও প্রত্যাখ্যান’ করে একটি রেজ্যুলেশন পাস হয়।

জাতিসংঘের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এ ঘটনার মাধ্যমে জেরুজালেম ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও চাপকে অগ্রাহ্য করে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। মাত্র নয়টি দেশ ছিল ইসরাইলের পক্ষে। ৩৫টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে ভোট পাওয়ার পরও ওই দেশগুলো দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা না দেয়ায় মূলত ইজরাইল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ