জেরুজালেম ইস্যু বিশ্বের নিপীড়িতদের জন্য পরীক্ষা: এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: জেরুজালেম ইস্যু মুসলিম উম্মাহ’র জন্য একটি নতুন পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি বলেন, একইসঙ্গে এটি তুর্কি জাতি, এই অঞ্চল এবং দুনিয়ার নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর জন্যও পরীক্ষা।

রবিবার ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন এরদোগান।

নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় এরদোগান বলেন, ‘নতুন বছরে আঙ্কারা তার পররাষ্ট্র নীতিকে আরো দৃঢ় করতে একটি ‘সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ’ নীতি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্য এবং জেরুজালেম ইস্যুতে তুরস্ক সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাবে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘এই অঞ্চলের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না করে তুরস্ক তার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে সক্ষম হবে না।’

হুরিয়াত পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যা আমাদেরকে আরো সক্রিয়, সাহসী বিদেশ নীতির দিকে পরিচালিত করছে এবং প্রয়োজন হলে আমরা আরো ঝুঁকিপূর্ণ নীতির দিকে অগ্রসর হবো।’

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এই অঞ্চলের বিষয় নিয়ে আঙ্কারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবে না এবং বিশেষভাবে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাবে।’

তুরস্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপসমূহ দেশটিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের সক্ষমতা দিয়েছে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘এই অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাস করতে গত বছরজুড়ে আমরা সিরিয়ার ইদলিবে অপারেশন পরিচালনা করেছি এবং শেষ পর্যন্ত ইরাকে আঞ্চলিক সরকারের স্বাধীনতার দাবি বাতিল করাতে সক্ষম হয়েছি আর তা সম্ভব হয়েছে আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে।’

ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সমালোচকদের মধ্যে তুরস্ক সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

এরদোগান তার নববর্ষের বার্তায় বলেন, ‘ইসরাইল ও ক্ষুদ্র কয়েকটি রাজ্য ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে কোনো রাষ্ট্র সমর্থন দেয়নি। বিপরীতে, ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসাবে জেরুজালেমের স্বীকৃতি অর্জনে তাদের পদক্ষেপ একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।’

সেপ্টেম্বরে কাজাকস্থানের রাজধানী আস্তানা অনুষ্ঠিত সিরিয়া নিয়ে সর্বশেষ আলোচনায় সিরিয়ায় তীব্রতা হ্রাস করতে চারটি ‘নিরাপদ জোন’ স্থাপনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইদলিব হচ্ছে সিরিয়ার চতুর্থ ‘নিরাপদ জোন’।

অক্টোবরের শেষের দিকে এরাদোগান জানিয়েছিলেন যে, ইদলিবে তুর্কি অপারেশনগুলোর বেশিরভাগই সম্পন্ন হয়েছে।

অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হচ্ছে- সেপ্টেম্বর মাসে ইরাকের কুর্দিঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য অনুষ্ঠিত গণভোট বাতিলে তুরস্ক কুর্দি আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করে। অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপসহ এরদোগান কঠোর সতর্কবার্তা দেন যে, স্বাধীনতার জন্য অনুষ্ঠিত এই ভোট বাতিল না করলে আঙ্কারা এই অঞ্চলে ট্রাক এবং তেলের প্রবাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

সূত্র: আরটি নিউজ