এরদোগানকে বিরোধী এমএইচপি পার্টির সমর্থন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে আবারো প্রেসিডেন্ট পদে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে তুরস্কের ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি)।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিশ্রুতি দেন এমএইচপি’র প্রধান দেবলেত বাহসেলি।

গত বছরের সাংবিধানিক গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী এরদোগানের পক্ষে তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেন তিনি।

তুর্কি পার্লামেন্টের ক্ষুদ্রতম চারটি সংসদীয় দলের একটি হচ্ছে এমএইচপি। দলটি এরদোগানকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রদানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটেও তাকে সমর্থন প্রদান করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে দেবলেত বাহসেলি বলেন, ‘এমএইচপি এরদোগানের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগানকে সমর্থন করার বিষয়ে এমএইচপি সিদ্ধান্ত নেবে।’

২০১৯ সালে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ উভয় নির্বাচনেই তুর্কি নাগরিকরা ভোট প্রদান করবেন।

পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য কোনো দলের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ১০ শতাংশ ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল চান তিনি। গত দুই দশক ধরে তিনি এমএইচপিকে মূলধারার দলে পরিনত করার চেষ্টা করছেন।

আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী নেতা মেরাল আকসেনারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে। এমএইচপি থেকে বেড়িয়ে গিয়ে মেরাল আকসেনার তার নিজের পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে, আকসেনারের দল এমএইচপি’র ১ শতাংশ ভোট নিজেদের দখলে নিতে পারে এবং ১০ শতাংশ ভোট অর্জনের সীমাকে ধূলিসাৎ করতে পারে।

বাহসেলি বলেন, তার দল এরদোগানের জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই একে পার্টি থেকে অনুরোধ আসতে হবে।

১৯৯৯ সালের সংসদীয় নির্বাচনে এমএইচপি ১৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন কিন্তু ২০০২ সালে ৯.৫ শতাংশ ভোট পান। ফলে দলটি পার্লামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। এরপর থেকে দলটি নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোটের বাধ্যবাধকতা কাটিয়ে ওঠতে সক্ষম হয় এবং ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ভোটে ১১.৯ শতাংশ ভোট পান।

১৯৬০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত সাবেক একজন কর্নেল দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এমএইচপি তুর্কি মিশ্র জাতীয়তাবাদের সমর্থক এবং পশ্চিমাদের প্রতি দলটির ব্যাপক সংশয়বাদ রয়েছে। দলটি তুরস্কের কুর্দি সংখ্যালঘুদের অবাধ স্বায়ত্তশাসনেরও ঘোর বিরোধী।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা