মুম্বাইয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ৫জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দিল্লি: ভারতের মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের কাছে একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস করপোরেশনের (ওএনজিসি) হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হলে এই ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।

মুম্বাইয়ের জুহু বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এসময় হেলিকপ্টারটিতে দুই পাইলট ও ওএনজিসির পাঁচ কর্মকর্তা ছিলেন।

ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ওএনজিসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। এসময় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ও লাইফ জ্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভারতে তিন বছরে ৩৫ এয়ারক্রাফট ধ্বংস, ১৪ পাইলট নিহত
(২২ ডিসেম্বর,২০১৭) ২০১৪-১৫ সাল থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ১১টি হেলিকপ্টারসহ ৩৫টি এয়ারক্রাফট হারিয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৪ জন পাইলট। বুধবার ভারতের সংসদে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

২০১১ সাল থেকে এই হিসাব নেয়া হলে তাতে দেখা যায়, ভারতের বিমান, সেনা ও নৌবাহিনী এ পর্যন্ত ৭০টি জঙ্গিবিমান ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে। এতে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়। যা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীতে বিমান দুর্ঘটনার হার উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ধ্বংসের এই তালিকায় ৩০টির বেশি জঙ্গিবিমান রয়েছে। এর মধ্যে আবার রয়েছে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও গর্বের হিসেবে পরিচিত অন্তত পাঁচটি টুইন-ইঞ্জিন সুখোই-৩০এমকেআই জঙ্গিবিমান।

তবে লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ ভামরে জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য এভিয়েশন সেফটি অর্গানাইজেশন শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপদ অনুশীলন ও পদ্ধতি নিশ্চিত করতে এয়ারক্রাফট ফ্লিট এবং অপারেশনাল এনভাইরনমেন্ট-এর ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক এলাকাগুলো চিহ্নিত করতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধক কর্মসূচির মাধ্যমে বাড়তি জোর দেয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার দুটি কারণ- কারিগরি ত্রুটি ও মানব ভুলকে এ পর্যন্ত চিহ্নিত করা গেছে। এর মানে হলো পুরনো আমলের বিমানবহর, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার পাশপাশি পাইলটদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

পাইলটদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও পুরনো জঙ্গিবিমানগুলো বদল করে আধুনিক বিমান চালু করার উদ্যোগে ঘটতি রয়েছে।

যেমন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পুরনো আমলের সিঙ্গেল ইঞ্জিন চেতাক হেলিকপ্টার বহর পরিবর্তনের জন্য ৪৮৪টি লাইট হেলিকপ্টার প্রয়োজন। বর্তমান হেলিকপ্টারগুলো ১৯৭০-এর দশকের মডেলের। বেশ কয়েক বছর ধরে এগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। প্রত্যান্ত এলাকায় নজরদারি ও রসদ পৌছানোর কাজে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে এয়ারক্রাফ্টের প্রচণ্ড ঘাটতি থাকার পরও দেশটির রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ২০০ কামভ-২২৬টি লাইট-ইউটিলিটি হেলিকপ্টার উৎপাদনের কাজ শুরু করতে পারেনি। দীর্ঘদিন থেকে এই ১ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি ঝুলে আছে। গত এক দশকে তিনবার এ ধরনের হেলিকপ্টার কেনার উদ্যোগ বাতিল করা হয় দুর্নীতির অভিযোগ ও কারিগরি সমস্যার কারণে।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি যখন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ১৮৭টি হেলিকপ্টার কেনা অনুমোদন করে তখন কথা ছিলো এগুলো ‘৬০ মাসের মধ্যে’ তৈরি করা হবে। ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান এরোনটিকসকে এই হেলিকপ্টার তৈরির কাজ দেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত হিন্দুস্তান এরোনটিকস হেলিকপ্টার সরবরাহ শুরু করতে পারেনি।