গুলেন সম্পর্কে মুসলিম আমেরিকানদের সতর্ক করলেন তুর্কি ধর্মীয় নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ওয়াশিংটন: সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘ফেতো’ সম্পর্কে মুসলিম আমেরিকানদের সতর্ক করে দিয়েছেন তুরস্কের ধর্মীয় বিষয়ক প্রধান আলি আরবাস।

শুক্রবার মেরিল্যান্ডের ‘আমেরিকান ডায়ানেট সেন্টারে’ (ডিসিএ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আলি আরবাস জানান, তুর্কি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে তিনি ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক করেছেন।

আরবাস বলেন, ‘ইসলামের নামে শুরু হওয়া ফেতো, আইএস এবং পিকেকে’র মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরো কার্যকর সংগ্রামের জন্য আমরা তুর্কি রাষ্ট্রদূত সার্দর কিলিকসহ অনেক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।’

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তারিখে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার পেছনে ফেটো সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ফেতো প্রভাবিত ব্যক্তিদেরকে পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রকৃত তথ্য ও সত্যিকারের ধর্মীয় জ্ঞান জানানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার পেছনে ফেতো এবং দলটির যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন দায়ী করা হয়ে থাকে। ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ২৫০ জন মানুষ মারা যান এবং আরো ২২০০ জন আহত হন।

আরবাস তার ভাষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়েও সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইসলামোফোবিয়া নিয়েও আমাদের লড়াই করা প্রয়োজন। ইসলামকে একটি চটুল এবং বিপজ্জনক ধর্ম হিসেবে দেখানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এই দুষ্কর্মের প্রচেষ্টার জবাব আমাদেরকে ইসলামের উষ্ণতার আলোকে দিতে হবে এবং তাদেরকে বুঝাতে হবে- ইসলাম কেবল আমাদের নিজেদের জন্যই নয়, বরং প্রত্যেকের জন্যই একটি শান্তির ধর্ম।’

যুবক ও শিশুদেরকে যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডিসিএ সেন্টার ছাড়াও মুসলিম নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি জানান, মসজিদ ভিত্তিক ঘটনা এবং সংগঠনগুলো সম্প্রসারিত করা হবে এবং এর কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন করা হবে।

তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ‘ডিসিএ সেন্টার’ ২০১৫ সালের শেষের দিকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান এটির উদ্বোধন করেন।

সেন্টারটিতে নিয়মিতভাবে শুক্রবারের নামাজ, রমজান মাসে ইফতার, ধর্মীয় ছুটির উৎসব এবং অন্যান্য বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে।

সূত্র: ইনি সাফাক