মানবসেবায় অস্ট্রেলীয় মুসলিম নারীর অনন্য কৃতিত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ক্যানবেরা: রিমা ওয়াইজানি’র স্বামী একদিন বাড়ি এসে তার একজন হতদরিদ্র সহকর্মীর কষ্টে জীবন-যাপনের কথা স্ত্রীকে জানান। তিনি জানতেন, অন্যদের সাহায্য করতে তার স্ত্রী অনেক কিছু করতে পারেন।

তার ওই সহকর্মী বাড়িতে কোনো খাবার ছিল না এবং তার নয়জন সন্তান কেবল শুষ্ক বিস্কুট খেয়েই বেঁচে ছিল।

রিমা ওয়াইজানি বলেন, ‘ওই দিন রাতের পুরোটা সময় আমি ভাবছিলাম-অভাবী মানুষদের জন্য যতটা সম্ভব আমাদের সহায়তা করা উচিৎ।’

কেউ খাবার দান করতে পারে কিনা তা দেখার জন্য তিনি একদিন তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন এবং দু’দিনের মধ্যেই তার বাড়িতে খাদ্যের বন্যা বয়ে যায়।

রিমা বলেন, ‘এটা আমার কাছে খু্ব পছন্দ হয়েছিল। এটা পেয়ে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। এটা ছিল মানুষের উদারতার একটি মহৎ উদাহরণ।’

‘অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’ নামে সংগঠন কর্তৃক রিমা গেল বছর ‘ভলানটিয়ার অব দ্য ইয়ার’ পদকে ভূষিত হন। অস্ট্রেলিয়ান সমাজের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব ব্যক্তি এবং সংগঠন মানব কল্যানে বিভিন্নভাবে অবদান রাখে তাদেরকে পদক প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করে থাকে সংগঠনটি।

তিনি বলেন, ‘আমি যা করতে চাই তা করতে ভালোবাসি। আমি মনে করি, আমাকে এই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে। আমি মানুষকে সাহায্য করাকে আমার কর্তব্যের অংশ বলে মনে করি এবং যতটা সম্ভব আমি মানুষকে সাহায্য করতে চাই।’

গত দুই-আড়াই বছরে তার ‘সিসি কমিউনিটি কিচেন’ সংগঠন থেকে খাদ্য, বস্ত্র এবং আসবাবপত্র প্রদানের মাধ্যমে শত শত আশ্রয় প্রার্থী, শরণার্থী, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হওয়া মানুষকে সহায়তা করা হয়েছে।

রিমা বলেন, ‘আমাদেরকে একে অপরের সাহায্য করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠন অভাবী মানুষদের সাহায্য করে থাকে। আমরা জাতীয়তা, ধর্ম, বর্ণ, জাতিকে আলাদা করে দেখি না। আমরা প্রত্যেক ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাহায্য করেছি। যদি আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা সাহায্য করি।’

তিনি মনে করেন যে সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল প্রধান শহরগুলোর মধ্যে ভাড়ার খরচ মেটানো।

তিনি বলেন, ‘সিডনিতে ভাড়া খুবই বেশি। তাই এ সম্পর্কে আমাদের কিছু করার আছে। এটা আমাদের দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা।’

একজন ইতিবাচক ‘মুসলিম রোল মডেল’ হওয়া রিমা ওয়াইজানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তার পুরস্কারের জন্য রোমাঞ্চ অনুভব করলেও একদিন পরেই তা স্বাভাবিকের মতই মনে হয়েছে বলে তিনি জানান।

রিমা বলেন, ‘কারো কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই আনন্দের এবং আমি আমার সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু এতে আমার নীতিতে কিছু পরিবর্তন করতে যাচ্ছে না। আমি যা করতে চাই তা করবো।’

সহকর্মী স্বেচ্ছাসেবক ও ভাল বন্ধু রানা আককিচ তাহা রিমা সম্পর্কে বলেন, তার কাজ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

তাহা বলেন, ‘গেল বছর তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আমরা তাকে নিয়ে সত্যিই অনেক আনন্দিত।’

সাফল্যের অর্থ হচ্ছে সম্প্রদায়কে তা ফেরত দেয়া
রেস্টুরেন্ট মালিক এবং সিসির কমিউনিটি কিচেনের স্বেচ্ছাসেবক বাশার রায়েমও রিমার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাকর্মে অংশ নিচ্ছেন।

গেল বছর তিনিও রিমার মতো ‘ম্যান অফ দ্য ইয়ার’ পদকে ভূষিত হন।

তিনি বলেন, ‘এমন সম্মান পাওয়া সত্যিই আনন্দের কিন্তু একই সময়ে এটি কিছুটা বিব্রতকরও। কারণ ভাল কিছু কাজের জন্য অনেকেই প্রচার পেতে চান না।’

তিনি জানান, তিনি কেবলমাত্র প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা অনুসরণ করছেন।

অস্ট্রেলিয়া প্লাস অবলম্বনে