উড়ন্ত বিমানে বিয়ে পড়ালেন পোপ! (ভিডিও)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সান্তিয়াগো: উড়ন্ত বিমানে বিয়ে হলো দুই বিমানকর্মীর। আর বিয়ে পড়িয়েছেন স্বয়ং ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস! চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে উত্তরাঞ্চলীয় ইকিক শহরে যাওয়ার পথে এই বিয়ে পড়ান পোপ। খবর রয়টার্সের।

ফ্লাইট এডেন্টডেন্ট পলা পোডেস্ট রুইজ (৩৯) ও কার্লোস সিফুয়ার্দি এলোরিগা (৪১) আগে সাধারণভাবে বিয়ে করেছেন। রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়েছে। তবে ধর্মমতে বিয়ে হয়নি তাদের। তাই ফ্লাইটে পোপের কাছে বিয়ের আশীর্বাদ চান তারা।

এ সময় পোপ তাদের বলেন, ‘আপনারা কি চান আপনাদের বিয়ে দিয়ে দেই?’ এ সময় তাদের বিয়ে না হওয়ার করুণ কাহিনী জানান তারা। বিয়ের জন্য তারা প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের ভূমিকম্পে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে তাদের সেই চার্চটি ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে আর ধর্মীয়ভাবে বিয়ে করা হয়নি তাদের।

এরপরই সান্তিয়াগো থেকে উত্তরাঞ্চলীয় ইকিক শহরে যাওয়ার পথে সংক্ষিপ্ত ওই ফ্লাইটের মধ্যে ছোট আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেন পোপ।

বিয়েতে একজন সাক্ষীর দরকার ছিল। এ সময় ওই বিমান প্রতিষ্ঠানের সিইও বিয়ের সাক্ষী হয়ে যান। বিয়ে শেষে নবদম্পতিকে হাতে লেখা বিয়ের সনদপত্র দেন পোপ ফ্রান্সিস। তাতে স্বাক্ষর করেন বর, কনে আর প্রত্যক্ষদর্শী।

বিয়েটিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

ঢাকায় ‘রোহিঙ্গা’ বলে মায়ানমারে তোপের মুখে পোপ
বাংলাদেশ সফরের সময় পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করায় মায়ানমারে সোশাল মিডিয়ায় তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে।

অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে এবিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করছেন। খবর বিবিসির

ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বললেও এর মাত্র কয়েকদিন আগে পোপ ফ্রান্সিস যখন মায়ানমারে ছিলেন তখন তিনি এই শব্দটি এড়িয়ে গেছেন।

শুক্রবার ক্যাথলিক খৃস্টানদের ধর্মীয় এই নেতা ঢাকার একটি গির্জায় কয়েকজন রোহিঙ্গার দুর্দশার কথা শোনেন এবং তিনি নিজেও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন।

এই রোহিঙ্গা শব্দটি মায়ানমারর কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রোহিঙ্গাদেরকে কোন জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না। তাদের কাছে তারা অবৈধ বাঙালি।

মায়ানমার গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেন নি তখন মায়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিলো। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থী বৌদ্ধরাও।

কিন্তু পোপ ফ্রান্সিস ঢাকায় রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেছেন এবং একই সাথে বাংলাদেশ থেকে রোমে ফিরে আসার পথে বিমানের ভেতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন তিনি মায়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করার পর মায়ানমারের অনলাইনে এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ দশকের মতো সময় মত প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ ছিলো। কিন্তু এখন এই দেশটিতে লোকজন সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন।

‘তিনি হচ্ছেন একটা গিরগিটির মতো, আবহাওয়ার কারণে যার গায়ের রঙ বদলে গেছে,’ ফেসবুকে এই মন্তব্য করেছেন অং সো লিন।

আরেকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সোয়ে সোয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘তার একজন সেলসম্যান বা দালাল হওয়া উচিত। একজন ধর্মীয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।’

মায়ানমারের ক্যাথলিক চার্চ থেকে পোপ ফ্রান্সিসকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিলো তিনি যাতে বিতর্কিত বিষয়ে কিছু না বলেন। কারণ সেরকম কিছু করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং সেখানে খৃস্টানদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

পোপ ফ্রান্সিস যখন মায়ানমারে ভাষণ দেন তখন তিনি তাতে ঐক্য, ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা বললেও, রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেননি।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ইয়ে লং মিন পোস্ট করেছেন, ‘পোপ একজন পবিত্র মানুষ। কিন্তু তিনি মায়ানমারে এক কথা বললেন আবার অন্য একটি দেশে গিয়ে অন্য কথা বললেন। তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে তার সবখানে একই কথা বলা উচিত ছিলো।’

অন্যদিকে মায়ানমার একটি রাজনৈতিক দলের নেতা মং থোয়ে চুন পোপের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘মানবাধিকার গ্রুপের চাপ সত্ত্বেও মায়ানমারে তিনি ‘রোহিঙ্গা’ বলেন নি। তার অর্থ তিনি মায়ানমারের লোকজনকে ভালোবাসেন। এই শব্দটি তিনি বাংলাদেশে বহুবার উচ্চারণ করেন নি। মাত্র একবারই এটা বলেছেন। আমার মনে হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সন্তুষ্ট করার জন্যে তিনি একাজ করেছেন।’