প্রমাণ করতে পারলে প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেব, এরদোগানের চ্যালেঞ্জ

বিশ্বের নিপীড়িত জনতার ত্রাণকর্তা এরদোগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আঙ্কারা: নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিতে ‘অফশোর ট্যাক্স হেভেনে’ অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ও প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।

তিনি এই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করার জন্য প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রধানের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

রবিবার এক অনুষ্ঠানে বিরোধী নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এরদোগান বলেন, ‘বিদেশে তাইয়্যেপ এরদোগানের যদি একটি মুদ্রাও থাকে, তার উচিৎ হবে এর প্রমাণ দেয়া। যদি প্রমাণিত হয়, আমি এক মিনিটের জন্য প্রেসিডেন্ট পদে থাকব না।’

তিনি বলেন, ‘কোন অফশোর ব্যাংকে তাইয়্যেপ এরদোগানের অ্যাকাউন্ট আছে? এটা প্রমান করুন। আপনি যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে আপনাকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে। যদি আপনি প্রমাণ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে আমি রাজনীতি ও আমার প্রেসিডেন্সি পদ থেকে পদত্যাগ করবো।’

এর আগে এক অনুষ্ঠানে সিএইচপি নেতা কেমেল কিলিকর্দোগ্লু অভিযোগ করেছিলেন যে এরদোগানের পরিবারের সদস্যরা অফশোর ট্যাক্স হেভেনে অর্থ জমা রেখেছেন।

গত ২১ নভেম্বর একটি অনুষ্ঠানে সিএইচপি নেতা বলেন, ‘এরদোগান আমি আপনাকে একটি সাধারণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব। আপনি কি জানেন যে আপনার সন্তানরা, আপনার শাশুড়ি, আপনার শ্বশুর, আপনার ভাই এবং আপনার প্রাক্তন নির্বাহী সহকারী লাখ লাখ মার্কিন ডলার একটি কোম্পানির মাধ্যমে অফ-শোর ট্যাক্স হেভেনে জমা দিয়েছেন?’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমি আপনাকে সেই কোম্পানিতে রাখা অর্থের পরিমাণ আপনাকে বলব: এক পাউন্ড স্টার্লিং। কিন্তু কোম্পানিটির কাছে পাঠানো হয়েছে লক্ষ লক্ষ ডলার। আমি এ ব্যাপারে জবাব দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’

এর প্রতিক্রিয়ায় এরদোগান কিলিকর্দোগ্লুর কাছে তার অভিযোগ প্রমাণের জন্য নথি উপস্থাপনের দাবি জানান।

এরদোগান বলেন, ‘আমি ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করছি, যার নাম আমি মুখে বলতে চাচ্ছি না। আপনার অভিযোগ প্রমাণের জন্য আপনার কাছে কী কোনো নথি আছে? যদি থাকে, তবে তা প্রকাশ করুন এবং আমি যা করা প্রয়োজন তা করবো।’

এরদোগান আরো বলেন, ‘আপনি যদি তা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে স্বীকার করুন যে আপনি মানহানির সঙ্গে জড়িত এবং ক্ষমা চান।’

এর আগে কুৎসাপূর্ণ ওই মন্তব্যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ৩,৮০,০০০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

ইস্তাম্বুল সিভিল কোর্টে মামলাটি দায়ের করেন এরদোগানের আইনজীবী আহমেদ ওজেল।

সূত্র: হুরিয়েত ডেইলি নিউজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।