ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে যেকোনো সময় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা ইউরোপ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায় পৌঁছে যাওয়ায় ইরানের ক্রোধের আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে পারে ইউরোপীয় শহরগুলো। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি স্টার’ অনলাইনের খবরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমটি এ নিয়ে কয়েকটি মানচিত্রও অঙ্কন করেছে।

ডেইলি স্টারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ইরানের উদ্দেশ্য একটি শীতল সতর্কবাণী পাঠায়। যুদ্ধ নীতি ভঙ্গের জন্য তেহরানকে অভিযুক্ত করে এতে বলা হয়েছে, ‘আমরা অলস বসে থাকব না’।

ইরানের বিদ্রোহীরা সৌদি রাজধানী রিয়াদে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্য উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এর ফলে পারমাণবিক-সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী ইরান ইউরোপের জন্য একটি বাস্তব ও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি নতুন বিশ্ব যুদ্ধ ঘোষণা করা হলে ইরানের মাঝারি পরিসীমার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ২,০০০ কিমি মধ্যে থাকা যে কোনো রাজধানী শহরকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

কিন্তু দেশটির সবচেয়ে বড় এবং ভয়ঙ্কর হুমকি হচ্ছে তার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ‘সৌমার’ নামের এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভয়ঙ্কর গতিতে ৩,০০০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।

এটি হচ্ছে ‘সোভিয়েত কেএইচ-৫৫’ এর একটি কপি, যা ২০০১ সালে ইউক্রেন থেকে চুরি হয়েছিল এবং দৃশ্যত ইরানের ইঞ্জিনিয়াররা তা ফিরিয়ে এনেছেন।

ক্ষেপণাস্ত্রটি যদি উত্তর-পশ্চিম ইরান থেকে নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে এটি কয়েকটি পশ্চিমা দেশসহ পূর্ব ইউরোপের যে কোন অংশকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।

এর পরিসরের মধ্যে রয়েছে জার্মানির রাজধানী বার্লিন, ইতালির রোম, মিলান এবং সুইজারল্যান্ডের পূর্ব অংশ।

এছাড়াও ফায়ারিং লাইনের মধ্যে গ্রীসের অ্যাথেন্স, তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগের মত ছুটি কাটানোর হটস্পটগুলো।

অন্যান্য দেশগুলোর মধ্য অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন এবং পোল্যান্ডের মতো দেশও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ইউরোপীয় দেশ ছাড়াও ইরানের সঙ্গে নতুন এই বিশ্বযুদ্ধের শিকার হতে পারে এশিয়ার কয়েকটি বিখ্যাত শহর। এরমধ্য রয়েছে ভারতের মুম্বাই এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদ।

এছাড়াও, পশ্চিমা চীনও এই ক্ষেপণাস্ত্র পরিসীমার মধ্যে পড়ে।

৩,০০০ কিলোমিটার পরিসীমায় মস্কোও পড়েছে। যদিও রাশিয়া ইরানের একটি শক্তিশালী মিত্র। তাই সত্যি সত্যিই কোনো যুদ্ধ বাঁধলে সম্ভবত পুতিনের সামরিক বাহিনীকে তা দেখতে হতে পারে।

‘সৌমার’ ক্ষেপণাস্ত্রটি এই বছরের প্রথম দিকে প্রথমবারের মতো পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৬০০ কিমি পর্যন্ত অতিক্রম করেছিল এবং তা ‘সফল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হল ‘সেজিল’ এবং ‘শাহাব-৩’। উভয় ক্ষেপনাস্ত্রেরই রয়েছে বৃহত্তম স্ট্রাকচার এবং ২০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পরিসীমা।

‘কিয়াম-১’ নামে ৮০০ কিমি পরিসীমার আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র গত জুলাই মাসে রিয়াদ এয়ারপোর্টে নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। দুই দেশের এই সংঘাত প্রতিবেশি দেশগুলোতে সম্প্রসারিত হওয়ায় একটি নতুন বিশ্বযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ডেইলি স্টার অবলম্বনে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।