বিশ্বে সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে নারীরা কতটা দায়ী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানে রবার্ট মুগাবে এবং ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবের চুড়ান্ত পরিণতির পর একটি বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। সেটি হচ্ছে- লিঙ্গ। অনেকে বলছেন- দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানে বিশেষ ভূমিকা ছিলো গ্রেসের নারী সত্ত্বার।

আফ্রিকার সমাজ ব্যবস্থা এবং চিন্তাধারা নারী সরকার ব্যক্তিত্বদের জন্য খুব একটা উদার নয়। একজন নারী যতই সফল হোন না কেন, তার যোগ্যতা এবং উদ্দেশ্য সেই সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আর তাঁদের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি তাই অসম্ভব কিছু নয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায়ও এই যুক্তিটির পক্ষে সমর্থন মিলেছে। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী সরকার প্রধানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট কোরাজন অ্যাকুইনোর শাসনামলের কথা। তাঁর শাসনামলে চারবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়। সবকটি অভ্যুত্থানই ব্যর্থ হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোও ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

নারী সরকারপ্রধান সামরিক আমলাতন্ত্রের স্বার্থের প্রতি হুমকি বলে ধারণা অনেকের। কেননা, একজন নারী সরকারপ্রধানের ক্ষেত্রে সামরিক খাতে ব্যয় কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো আর সংঘাত এড়িয়ে চলার পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা বেশি। আরেকটি কারণ হতে পারে, সামাজিক চিন্তার সংকীর্ণতা। নারী নিজ যোগ্যতাবলে সরকারপ্রধান এবং যোগ্য রাজনৈতিক নেতা হতে পারেন- সংকীর্ণমনাদের জন্য এটি মেনে নেয়া কঠিন।

আরও কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে- একটি অভ্যুত্থান পরিচালনায় ব্যক্তির লিঙ্গ প্রভাব রাখতে পারে। একটি সফল অভ্যুত্থান পরিচালনার জন্য যে ধরনের যুক্তিবুদ্ধি, বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা এবং কৌশলী চরিত্র প্রয়োজন, তা নারী-পুরুষ ভেদে ভিন্নতা দেখা যায়। একজন নারীর পক্ষেও একটি অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া এবং সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নারীর লিঙ্গই তাঁদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের একমাত্র কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অনেক দেশে স্বাধীনতা আর গণতন্ত্রের লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নারী। জিম্বাবুয়েতেও এর ব্যত্যয় হয়নি। দেশটিতে বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে করা আন্দোলনে নারীরা ছিলেন নেতৃত্বে।

জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামের নারী মুক্তিযোদ্ধা জোসি মুজুরো দেশটির রাজনীতিতে অত্যন্ত সফল ছিলেন। দায়িত্বকালে তিনি সেনাবাহিনী বা অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও তেমন বিরোধিতার সম্মুখীন হননি।

একসময় তাকে রবার্ট মুগাবের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হোতো। কিন্তু মুগাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন- এমন অভিযোগে ২০১৪ সালে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই রাজনীতির পর্দার আড়ালে চলছে ক্ষমতা দখলের এমন সব লড়াই। সেই দ্বন্দ্বযুদ্ধে কে বিজয়ী হবেন সেটি নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে আছে লিঙ্গ।

সূত্রঃ প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।